ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
ঢাকা: পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সম্প্রীতি এবং মানবপ্রেমই প্রকৃত ধর্মচর্চার মূল শিক্ষা বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের উল্টো রথযাত্রা মহোৎসব-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন বলে জানা গেছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রকৃত ধর্মবিশ্বাসীরা কখনো অন্যের ধর্মীয় বিশ্বাস বা উপাসনার পদ্ধতিকে অসম্মান করেন না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পৃথিবীর বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীরা নিজ নিজ বিশ্বাস ও আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সর্বশক্তিমানের সান্নিধ্য লাভের চেষ্টা করেন। তাই ভিন্ন ধর্মের মানুষের বিশ্বাসের প্রতিও সমান সম্মান প্রদর্শন করা উচিত বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জানা গেছে, আলোচনায় তিনি আরও বলেন, আল্লাহ, ঈশ্বর কিংবা ভগবান—যে নামেই ডাকা হোক না কেন, প্রকৃত ধর্মপ্রাণ মানুষ অন্যের ঈশ্বরপ্রেমকে সম্মান করতে শেখেন। তাঁর দাবি, ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা মানুষে মানুষে সৌহার্দ্য, সহনশীলতা এবং মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
অনুষ্ঠানে শ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা ও উল্টো রথযাত্রাকে মানুষের সঙ্গে সৃষ্টিকর্তার ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করা হয় বলে জানা গেছে। একইসঙ্গে ইসলামে নামাজ, খ্রিস্টধর্মে প্রার্থনা, বৌদ্ধধর্মে উপাসনাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় আচারকে মানুষের আত্মসমর্পণ ও আধ্যাত্মিক চর্চার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে তুলে ধরেন মন্ত্রী।
এ সময় জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে সমাজে বিভেদ তৈরির অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। তাঁর দাবি, শুধু বাংলাদেশেই নয়, প্রতিবেশী কয়েকটি দেশেও ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের নজির রয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতি সম্পর্কে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, ধর্মের নামে বিভাজন সৃষ্টি সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর। তাঁর মতে, নিজের ধর্মীয় বিশ্বাসে অটল থেকে অন্য ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমেই একটি শান্তিপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং অসাম্প্রদায়িক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
আলোচনা সভায় তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, ধর্ম, বর্ণ, ভাষা কিংবা পাহাড়-সমতলের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বিভাজন সরকার মেনে নেবে না। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন দেশের সব ধর্ম, ভাষা, সংস্কৃতি ও জনগোষ্ঠীকে একটি অভিন্ন জাতীয় পরিচয়ের বন্ধনে যুক্ত করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জানা গেছে, স্বামীবাগ আশ্রমের অধ্যক্ষ ও ইসকন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক নিতাই স্বামী মহারাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া উল্টো রথযাত্রা মহোৎসবের উদ্বোধনও করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম।