নিজস্ব প্রতিবেদক:
কিশোরগঞ্জের হাওরের সৌন্দর্য দেখতে গিয়ে একটি পরিবারের আনন্দের দিনটি হঠাৎ করেই বদলে গেল শোকের দিনে। মেয়েকে পানিতে ডুবে যাওয়া থেকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন বাবা। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোক।
জানা গেছে, গত শুক্রবার বিকেলে কিশোরগঞ্জ সদরের গাইটাল এলাকার বাসিন্দা পেশায় ফিজিওথেরাপিস্ট বাছির উদ্দিন মিলন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে করিমগঞ্জের বালিখলা হয়ে মিঠামইনের দিকে হাওর ভ্রমণে যান। উদ্দেশ্য ছিল পরিবার নিয়ে একটু সময় কাটানো এবং হাওরের প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করা।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বিকেলের দিকে তারা করিমগঞ্জ ও মিঠামইনের সীমান্তে অবস্থিত হাসানপুর ব্রিজের কাছাকাছি একটি স্থানে নৌকা থামান। সড়কের পাশে পানি দেখে পরিবারের সদস্যরা গোসল করতে নামেন। সে সময় হঠাৎ করেই মিলনের মেজো মেয়ে মন্ত্রী আক্তার পা পিছলে গভীর পানিতে পড়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
মেয়ের আর্তচিৎকার শুনে বাবা বাছির উদ্দিন মিলন আর এক মুহূর্ত দেরি করেননি। নিজের জীবনের কথা না ভেবেই তিনি হাওরের পানিতে ঝাঁপ দেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রাণপণ চেষ্টার পর তিনি মেয়েকে পানি থেকে টেনে তীরে নিয়ে আসতে সক্ষম হন। কিন্তু মেয়েকে নিরাপদে ফেরানোর পরপরই হাওরের তীব্র স্রোত তাকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন ও নৌকার মাঝিরা উদ্ধার কাজে নেমে পড়েন। অনেক খোঁজাখুঁজির পর সন্ধ্যার দিকে তার মরদেহ পানি থেকে উদ্ধার করা হয় বলে জানা গেছে।
করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সোহেব খান বলেন, মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে বাছির উদ্দিন মিলন পানিতে ডুবে মারা গেছেন। স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহ উদ্ধারের পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
রাত ১০টার দিকে কিশোরগঞ্জ সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাকে গাইটালের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও তিন সন্তান রেখে গেছেন।
একটি স্বাভাবিক ভ্রমণ কীভাবে মাত্র কয়েক মিনিটে একটি পরিবারের জন্য আজীবনের কান্নায় পরিণত হলো, তা ভেবেই এলাকার মানুষ বিস্মিত। হাওর এলাকায় ঘুরতে আসা পর্যটকদের পানিতে নামার আগে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন স্থানীয়রা।