ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
বৈরী আবহাওয়ার কারণে গত ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার কয়েকটি বিষয়ে অংশ নিতে না পারা পরীক্ষার্থীদের বিষয়ে নতুন নির্দেশনা এসেছে বলে জানা গেছে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেসব শিক্ষার্থী ওই দিন পরীক্ষা দিতে পারেননি এবং পুনঃপরীক্ষায় অংশ নিতে আগ্রহী, তাদের জন্য নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম এখনও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং নিবন্ধন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক জেসমিন তাসলিমা বানুর সই করা এক বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা যায়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড ছাড়া দেশের অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডের যেসব পরীক্ষার্থী বৈরী আবহাওয়ার কারণে ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি, তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ সুযোগের আওতায় সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, হিসাববিজ্ঞান প্রথম পত্র ও যুক্তিবিদ্যা প্রথম পত্র, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অফিস ম্যানেজমেন্ট বিষয়ের পরীক্ষার্থীরা অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীদের নিবন্ধনের জন্য আগামী ২৯ জুলাই পর্যন্ত সময় নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোকে পরীক্ষার্থীদের তথ্য আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কাছে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই প্রক্রিয়া এখনও বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে। ফলে পরীক্ষার্থীদের শিক্ষা বোর্ড, নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে পরবর্তী নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধন শুরু হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত সময়সূচি ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জানাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনেক পরীক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে না পারায় পরীক্ষা দিতে পারেননি বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলে পুনঃপরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার দাবি ওঠে। পরে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের কথা জানায়।
পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নির্দেশনার দিকে নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে গুজব বা অনিশ্চিত তথ্যের ওপর নির্ভর না করে শিক্ষা বোর্ড ও নিজ নিজ পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে প্রকাশিত নির্দেশনাকেই অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।