বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
প্রতিমন্ত্রীর ভাইরাল ছবি-ভিডিও নিয়ে দ্যা ডিসেন্টের অনুসন্ধানে মিলল নতুন তথ্য জুলাইয়ের চেতনায় রাষ্ট্র বদলের আহ্বান জানালেন মন্ত্রী ফেরার পথে সারজিস আলমের গাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে খাবার দিতে দেরি, ভাবিকে হত্যা করে মাথা ঝুলানোর অভিযোগ পরকীয়ার অভিযোগে স্থানীয় জামায়াত নেতা মারধরের শিকার বাউফলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক, হবিগঞ্জে অবশেষে প্রত্যাহার হলো ১৪৪ ধারা আদেশ দিনভর বাধার পর রাতে হবিগঞ্জে এনসিপির অভিযোগ, ১১ জন আসামি দুই মামলায় হাইকোর্টের জামিন পেলেন ব্যারিস্টার সুমন এইচএসসি জীববিজ্ঞান পরীক্ষায় প্রশ্ন ভুলের অভিযোগ, বোর্ডের পর্যালোচনা শুরু ২০২৭ সালের রমজান ও ঈদ নিয়ে এলো নতুন সুখবর

প্রতিমন্ত্রীর ভাইরাল ছবি-ভিডিও নিয়ে দ্যা ডিসেন্টের অনুসন্ধানে মিলল নতুন তথ্য

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬

ক্রাইম এডিশন অনলাইন:

বাংলাদেশের পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও পঞ্চগড়-২ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিও নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মূলধারার একাধিক সংবাদমাধ্যমে এসব ছবি ও ভিডিওকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি এবং ভুয়া বলে দাবি করা হলেও, দ্যা ডিসেন্ট প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে বলে জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত ছবি ও ভিডিওর উচ্চ রেজুলেশনের সংস্করণ সংগ্রহ করে একাধিক এআই শনাক্তকারী টুলের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়েছে। ওই পরীক্ষায় কনটেন্টগুলো এআই দিয়ে তৈরি—এমন কোনো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে আরও বলা হয়েছে, ভাইরাল হওয়া একটি হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনের স্ক্রিনশট থেকে একটি মোবাইল নম্বর ও এক নারীর ছবি শনাক্ত করার চেষ্টা করা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট নম্বরে যোগাযোগ করলে একজন নারী নিজের পরিচয় নিশ্চিত করেন এবং ছবিটি তার বলে স্বীকার করেন। তবে তিনি দাবি করেন, তার ছবি বা নম্বর কীভাবে আলোচিত ঘটনায় যুক্ত হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।

প্রতিবেদনে আরও জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট নারী ও প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের গ্রামের অবস্থান একই এলাকায়। স্থানীয় কয়েকজনের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, অতীতে ওই নারীর পড়াশোনায় প্রতিমন্ত্রীর সহায়তার বিষয়েও এলাকায় আলোচনা রয়েছে। যদিও এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়েছে—এমন দাবি প্রতিবেদনে করা হয়নি।

এছাড়া প্রতিবেদকের সঙ্গে ওই নারীর কথা বলার কিছু সময় পর প্রতিমন্ত্রীর নামে সংরক্ষিত একটি নম্বর থেকে ফোন আসে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে ওই নম্বরে যোগাযোগ করলে তিনি সরাসরি বিষয়টির ব্যাখ্যা না দিয়ে সাক্ষাতের আহ্বান জানান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তী সময়ে আবার যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি ব্যস্ততার কথা বলে ফোন কেটে দেন বলেও জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, প্রতিমন্ত্রীর পক্ষে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ বিশ্লেষণ করে দ্যা ডিসেন্ট দাবি করেছে, একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ভাষা, অনুচ্ছেদ ও উপস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে। বিশেষ করে ছবি বিশ্লেষণ, এআই প্রযুক্তির ব্যবহার এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে লেখা কয়েকটি অংশ বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রায় একই ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ পূর্বেই দাবি করেছেন, ভাইরাল হওয়া ছবি ও ভিডিও ভুয়া এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে। জেলা বিএনপির নেতারাও সংবাদ সম্মেলনে একই ধরনের অভিযোগ তুলেছেন।

উল্লেখ্য, দ্যা ডিসেন্ট তাদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করেছে যে, সংগৃহীত তথ্য ও প্রযুক্তিগত যাচাইয়ের ভিত্তিতে তারা এই অনুসন্ধান প্রকাশ করেছে। তবে আলোচিত বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও পাল্টা দাবিও প্রতিবেদনে স্থান পেয়েছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা যাচাই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© ২০২৬ ক্রাইম এডিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

Theme Customized By BreakingNews