
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকার একটি বাসায় এক নারী চিকিৎসকের মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বাসায় প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করার পাশাপাশি স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ লুট করে নিয়ে গেছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ, জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং কী পরিমাণ মালামাল খোয়া গেছে—এসব বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে জানা গেছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি দক্ষিণখান থানার ফায়দাবাদ এলাকার জামতলা গলির একটি বহুতল ভবনের দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে ঘটে। নিহত নারী চিকিৎসক সারা রোকসানা পিনু ঘটনার সময় বাসায় একাই ছিলেন বলে জানা গেছে। পরিবারের অন্য সদস্যরা নিজ নিজ কাজে বাইরে ছিলেন।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, দুর্বৃত্তরা বাসার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে চিকিৎসককে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ নিয়ে পালিয়ে যায়। নিহতের স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে বাসার বিভিন্ন জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখা যায়, যা লুটপাটের ইঙ্গিত দিতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন।
নিহতের এক ছেলে বলেন, তিনি বাসায় ফিরে মাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। তার দাবি, বাসার গ্রিল কাটা ছিল এবং ঘরে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্রও আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো আলামত স্পর্শ না করার পরামর্শ দিয়েছে বলেও তিনি জানান।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহতের স্বামী প্রতিদিনের মতো কর্মস্থলে ছিলেন এবং মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দিয়েছিলেন। পরে স্কুল ছুটির সময় নিহত নারী সন্তানকে আনতে না গেলে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। পরে শিশুটি নিজেই বাসায় এসে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি দেখতে পেয়ে আবার স্কুলে ফিরে শিক্ষকদের জানায়। এরপর পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয় এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা বিভাগের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বিকেলের দিকে বাসার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করা হয়েছিল। একই সঙ্গে শ্বাসরোধে হত্যার আলামত এবং লুটপাটের বিষয়টিও তদন্তে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
দক্ষিণখান থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। কীভাবে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তের আওতায় রয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।