
ক্রাইম এডিশন, ডেস্ক রিপোর্ট:
রাজধানীর একটি অনুষ্ঠানে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগ দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যেতে চেয়েছিল। তার দাবি, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের নতুন প্রজন্ম সেই পরিস্থিতি থেকে বাংলাদেশকে ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
শনিবার (১ আগস্ট) ঢাকার সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‘ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণসভা ও সৃজনশীল শিক্ষার্থী সম্মাননা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন বলে জানা গেছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জুলাই-আগস্টের ঘটনায় বহু মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে দেশ নতুন এক বাস্তবতায় পৌঁছেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ কারণে জুলাই মাস দেশের মানুষের স্মৃতিতে দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ গুরুত্ব বহন করবে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, কেবল প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে উন্নত বাংলাদেশ গঠন সম্ভব নয়। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে কারিগরি শিক্ষার প্রসার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে দক্ষ কর্মীতে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
তার বক্তব্যে আরও অভিযোগ করা হয়, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মীদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশে আরও চারটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি বলে জানা গেছে। তার মতে, দক্ষ জনশক্তি বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি উদ্ভাবনী চিন্তা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং সৃজনশীলতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গঠনে তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান বলেও অনুষ্ঠানে উপস্থিত সূত্রে জানা গেছে।
অনুষ্ঠানে ঢাকা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মো. মুস্তাফিজুর রহমান খান সভাপতিত্ব করেন। এছাড়া সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলী এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
এ সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। পাশাপাশি আহত কয়েকজন শিক্ষার্থীকে উত্তরীয় পরিয়ে সম্মাননা জানানো হয়েছে বলেও আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।