ক্রাইম এডিশন, ডেস্ক রিপোর্ট:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আয়োজিত একটি আলোচনা সভায় জাতীয় নারী শক্তির সদস্যসচিব ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু জুলাই আন্দোলন, রাজনৈতিক বক্তব্য এবং রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন বলে জানা গেছে।
শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের সুর সম্রাট দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গন মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনকে ঘিরে বিভিন্ন মহল থেকে "ব্যবসা" শব্দটি ব্যবহার করে সমালোচনা করা হলেও তিনি এ ধরনের মন্তব্যকে ভিন্নভাবে দেখেন।
তার দাবি, কেউ যদি এই আন্দোলনের স্মৃতি, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং তাদের পরিবারের প্রতি দায়বদ্ধতাকে গুরুত্ব দেওয়াকে "ব্যবসা" বলে অভিহিত করেন, তাহলে সেই সমালোচনায় নিরুৎসাহিত হওয়ার কারণ নেই। তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের ইতিহাস ও আত্মত্যাগের বিষয়গুলো মানুষের সামনে তুলে ধরা অব্যাহত রাখা উচিত।
ডা. মাহমুদা মিতু অভিযোগ করে বলেন, বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে জুলাই আন্দোলনের গুরুত্ব কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা হয়েছে। পাশাপাশি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মোদিবিরোধী আন্দোলনে নিহতদের বিষয়টিও স্মরণে রাখার আহ্বান জানান বলে বক্তব্যে উল্লেখ করেন।
বিএনপিকে উদ্দেশ করে তিনি আরও বলেন, শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন, রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে সংস্কার এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হওয়া উচিত। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সংবিধান সংস্কার, পুলিশ সংস্কার, গুম কমিশনসহ বিভিন্ন সংস্কারমূলক উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
সভায় তিনি আরও অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তি, ছবি সম্পাদনা করে বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং অপপ্রচারের মাধ্যমে রাজনৈতিকভাবে চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এসব কর্মকাণ্ডে তারা ভীত নন বলেও মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগম এবং এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আতাউল্লাহ। এছাড়া জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন নেতাকর্মীও বক্তব্য রাখেন বলে জানা গেছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন এনসিপির ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আহ্বায়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম। অনুষ্ঠানে জাতীয় নারী শক্তি, যুব শক্তি ও ছাত্র শক্তির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ, রাষ্ট্র সংস্কার এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিয়ে মতবিনিময় করেন বলে আয়োজক সূত্রে জানা গেছে।