নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর দক্ষিণখানে এক নারী ডেন্টিস্টের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তদন্তে নতুন অগ্রগতির তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ডেন্টিস্ট সারাহা রোকসানা পিনু হত্যা মামলায় তার স্বামী সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আদালতে তার বিরুদ্ধে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি সোমবার (৩ আগস্ট) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
পুলিশের দাবি, গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণখানের একটি বাসা থেকে সারাহা রোকসানা পিনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থলে জানালার গ্রিল কাটা অবস্থায় পাওয়ায় ধারণা করা হয়েছিল, বাইরে থেকে কেউ বাসায় প্রবেশ করে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারে। তবে তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাটিকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলের জানালার পাশে পাওয়া জুতার ছাপ পরীক্ষা করে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পান। পরে সেই আলামত এবং ঘটনাস্থলের অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে নিহতের স্বামীকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। যদিও মামলাটি এখনও তদন্তাধীন এবং আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী বলা আইনগতভাবে সমীচীন নয়।
জানা গেছে, নিহতের বোন সারাহ সুলতানা পলি বাদী হয়ে দক্ষিণখান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পর তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করা হয় এবং এর অংশ হিসেবে সোহেল রানাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতে তার বিরুদ্ধে রিমান্ডের আবেদন করা হলেও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।
পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, গ্রেপ্তার হওয়া সোহেল রানা রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার ৭ নম্বর সেক্টর এলাকায় অবস্থিত একটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানে সহকারী ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত। তদন্তকারীরা বলছেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ, হত্যার পেছনের সম্ভাব্য উদ্দেশ্য এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তদন্তে প্রাপ্ত সব ধরনের আলামত ও তথ্য গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
পুলিশের ভাষ্য, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং নতুন কোনো তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আদালতের নির্দেশনা এবং তদন্তের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।