সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:১১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
স্ত্রীর স্বীকৃতি চেয়ে বিষের বোতল হাতে অনশনে বসেন তরুণী একসময়ের ক্ষমতার কেন্দ্র, এখন পরিত্যক্ত সেরনিয়াবাত ভবন চত্বরে নীরবতা আগস্টেই যোগদানের দাবিতে শাহবাগে শিক্ষকদের লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি হাসপাতালের আলোচিত হত্যাকাণ্ড, এবার বিনোদনের পর্দায় নতুন রূপ ছাত্র আন্দোলনের সময় নেওয়া এক সিদ্ধান্তে আবারও আলোচনায় জাবি শিক্ষিকা শামীমা সুলতানা দক্ষিণখানের ডেন্টিস্ট হত্যা মামলায় স্বামী গ্রেপ্তার, তদন্তে নতুন মোড় জুলাই প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখলেন এমপি ডা. মাহমুদা মিতু প্রেমিকাকে মোবাইল কিনতে অপহরণ নাটকের অভিযোগে চাঞ্চল্য ৫ আগস্ট ঢাকায় বড় সমাবেশের ঘোষণা ইসলামী আন্দোলনের ‘মজলুম’ থেকে ‘জালিম’ বিএনপি, কড়া মন্তব্য মাহমুদা মিতুর

ছাত্র আন্দোলনের সময় নেওয়া এক সিদ্ধান্তে আবারও আলোচনায় জাবি শিক্ষিকা শামীমা সুলতানা

  • প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬

ক্রাইম এডিশন, ডেস্ক রিপোর্ট:

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বাংলা বিভাগের এক শিক্ষকের একটি সিদ্ধান্ত আবারও আলোচনায় এসেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তিনি নিজের কার্যালয় থেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিকৃতি সরিয়ে দেন। জানা গেছে, ওই ঘটনার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অধ্যাপক শামীমা সুলতানা বলেন, আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, গ্রেফতার, গুলি ও প্রাণহানির ঘটনাগুলো তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যক্তিগত নৈতিক অবস্থান থেকেই তিনি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং এটিকে তিনি রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে নয়, বরং প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে দেখেছেন।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১ আগস্ট তার অফিস কক্ষে তোলা একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। সেখানে তার চেয়ারের পেছনের দেয়ালে শেখ হাসিনার প্রতিকৃতি না থাকায় বিষয়টি দ্রুত আলোচনায় আসে। পরে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার বিশ্বাস থেকেই তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এর আগে ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ইস্যুতেও তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছিলেন। তার দাবি, ২০২৪ সালের ১৫ জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহের পর তিনি আর নীরব থাকা সমীচীন মনে করেননি এবং আন্দোলন শেষ হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পাশে ছিলেন।

এছাড়া জানা গেছে, আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনে নিজের কার্যালয় উন্মুক্ত রাখেন তিনি। অভিযোগ উঠেছে, আন্দোলনকারীদের যোগাযোগ সহজ করতে অফিসের ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগও দেওয়া হয়েছিল। একই সময়ে বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত প্রাণহানির ঘটনাগুলো তার সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তিনি বলেন, বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর হুমকিমূলক বার্তা, কটূক্তি এবং ব্যক্তিগত আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছিল। আরও জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে লিফলেট বিতরণ এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগের কথাও আলোচনায় আসে। তবে পরবর্তীকালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে পরিবর্তনের পর সেই সিদ্ধান্ত আর কার্যকর হয়নি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অধ্যাপক শামীমা সুলতানার ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়িতে ফেরার পর তার ছেলে তাকে জড়িয়ে ধরে বলেছিল, “মা, আমি তোমাকে নিয়ে গর্বিত।” তিনি এটিকে নিজের জীবনের একটি আবেগঘন মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।

সবশেষে তিনি বলেন, নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি অনুতপ্ত নন। তার দাবি, এটি কোনো ব্যক্তিগত অর্জন নয়; একজন শিক্ষক হিসেবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকেই তিনি ওই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

শুক্র শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  

© ২০২৬ ক্রাইম এডিশন, সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

Theme Customized By BreakingNews