নিজস্ব প্রতিবেদক:
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতির দাবিতে এক তরুণীর স্বামীর বাড়ির সামনে অনশনে বসার ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। রোববার (২ আগস্ট) সকালে উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নের চাচই গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। অনশনে বসা তরুণীর হাতে একটি বিষের বোতল ছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অনশনরত তরুণীর বয়স ১৮ বছর এবং তিনি একই উপজেলার নোয়াগ্রাম এলাকার বাসিন্দা। অভিযুক্ত যুবক সৈয়দ ফেরদৌস আলী (২১) চাচই গ্রামের বাসিন্দা। তরুণীর দাবি, প্রায় এক বছর আগে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে চলতি বছরের ৯ এপ্রিল উভয়ের সম্মতিতে পাবলিক নোটারির মাধ্যমে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তরুণীর ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ের পর কয়েকবার অভিযুক্ত যুবক তাকে আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে গেলেও পরবর্তীতে স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিতে অস্বীকৃতি জানান। এতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে স্বামীর বাড়িতে গিয়ে অনশনে বসেন বলে জানান।
অনশনরত তরুণী অভিযোগ করেন, বৈবাহিক সম্পর্কের স্বীকৃতি না পেলে তিনি বিষপান করে আত্মহত্যার মতো চরম সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তার হাতে বিষের বোতল থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে আশপাশের মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে থাকেন।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, অনশনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযুক্ত যুবক ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে তালা দিয়ে সেখান থেকে চলে যান। ফলে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্তের কোনো বক্তব্যও পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছে। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। তারা চান, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান।
উল্লেখ্য, বিয়ের দাবি এবং স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি না পাওয়ার অভিযোগ বর্তমানে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য ও সম্ভাব্য তদন্তের বিষয়। তাই বিষয়টির চূড়ান্ত সত্যতা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।