নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার পরিচালিত খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১৫ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের শুরু থেকে এই কার্যক্রম চালু হয়েছে এবং এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন উপজেলার লাখো পরিবার নির্ধারিত মূল্যে চাল সংগ্রহের সুযোগ পাচ্ছে।
জানা গেছে, দেশের ৪৯৫টি উপজেলার প্রায় ৫৫ লাখ কার্ডধারী পরিবার এই কর্মসূচির সুবিধাভোগী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রতিটি পরিবার প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ৩০ কেজি চাল সংগ্রহ করতে পারবে বলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বছরে মোট ছয় মাস এই সুবিধা কার্যকর থাকবে। আগস্ট, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, নভেম্বর এবং পরবর্তী বছরের মার্চ ও এপ্রিল মাসে উপকারভোগীরা নির্ধারিত মূল্যে চাল সংগ্রহের সুযোগ পাবেন বলে বলা হয়েছে।
এদিকে, পুষ্টি নিশ্চিত করার লক্ষ্যেও কর্মসূচির একটি অংশ পরিচালিত হচ্ছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, দেশের ২৪৮টি উপজেলায় প্রায় ২৫ লাখ ২৯ হাজার মানুষের মধ্যে পুষ্টিসমৃদ্ধ (ফর্টিফায়েড) চাল বিতরণ করা হচ্ছে। অন্যদিকে ২৪৭টি উপজেলায় প্রায় ২৯ লাখ ৭১ হাজার উপকারভোগীর জন্য সাধারণ চাল সরবরাহের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এছাড়াও, খোলা বাজারে বিক্রয় (ওএমএস) কার্যক্রমও চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে ১ হাজার ১০৮টি বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে চাল ও আটা বিক্রি অব্যাহত রয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ তুলনামূলক কম দামে খাদ্যশস্য সংগ্রহ করতে পারেন।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বর্তমানে সরকারি খাদ্য মজুত সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য সংগ্রহ কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২ আগস্ট পর্যন্ত সরকারি গুদামে মোট খাদ্যশস্যের মজুত ছিল ২৩ লাখ ৪৯ হাজার ৩৮৫ মেট্রিক টন। এর মধ্যে চালের পরিমাণ ১৯ লাখ ৬৬ হাজার ১৪৮ মেট্রিক টন, গম ২ লাখ ৮০ হাজার ১০ মেট্রিক টন এবং ধান (চালে রূপান্তরিত হিসাব অনুযায়ী) ছিল ১ লাখ ৫২ হাজার ১০৯ মেট্রিক টন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের ভাষ্য, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করা, অপুষ্টি কমানো এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে আরও কার্যকর করতে সরকার এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। তবে কর্মসূচির বাস্তবায়ন ও সুবিধাভোগীদের কাছে সঠিকভাবে সেবা পৌঁছানোর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকির ওপর নির্ভর করবে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।