নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের বাজারে কাঁচা মরিচের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে ভারত থেকে আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, হিলি স্থলবন্দরের একাধিক আমদানিকারককে কয়েক হাজার টন কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর আমদানি কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিকূল আবহাওয়া, অতিবৃষ্টি ও ঝড়ের কারণে মরিচের চাষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় খুচরা পর্যায়ে কাঁচা মরিচের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। অনেক এলাকায় প্রতি কেজির দাম ৩০০ টাকারও বেশি হয়েছে বলে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
আমদানিকারকদের দাবি, প্রতিবেশী দেশে কাঁচা মরিচের দাম তুলনামূলকভাবে কম থাকায় আমদানির মাধ্যমে দেশের বাজারে সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হবে। এতে মূল্য কিছুটা স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসতে পারে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন। অনুমতি পাওয়ার পর ইতোমধ্যে এলসি খোলাসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলেও জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট এক আমদানিকারকের ভাষ্য অনুযায়ী, বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আমদানি শুরু হলে বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ যুক্ত হবে, যা মূল্য কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
অন্যদিকে, হিলি স্থলবন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে যে, অনুমোদনপ্রাপ্ত আমদানিকারকেরা এখন নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে কাঁচা মরিচ দেশে আনতে পারবেন। তাদের দাবি, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সীমান্ত দিয়ে আমদানি কার্যক্রম চালু হবে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শুধুমাত্র আমদানির ঘোষণা নয়, নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে এর সুফল সাধারণ ভোক্তারা পেতে পারেন। তবে আন্তর্জাতিক বাজার, পরিবহন ব্যয় এবং স্থানীয় পাইকারি বাজারের পরিস্থিতির ওপরও দামের ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করবে বলে তারা উল্লেখ করেছেন।
এদিকে, ক্রেতাদের প্রত্যাশা—বাজারে পর্যাপ্ত কাঁচা মরিচ পৌঁছাতে শুরু করলে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির চাপ কমবে এবং দৈনন্দিন রান্নার অন্যতম এই পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ফিরে আসবে। তবে বাস্তবে কত দ্রুত দাম কমবে, তা আগামী কয়েক দিনের বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।