ক্রাইম এডিশন, ডেস্ক রিপোর্ট:
সরকার সম্পত্তি দানের বিদ্যমান ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে। প্রস্তাবিত সংশোধনের মাধ্যমে বাবা-মা বা অন্য কোনো দাতা তাদের সন্তান কিংবা উত্তরাধিকারীর নামে সম্পত্তি হস্তান্তর করলেও জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ব্যবহার ও ভোগ করার অধিকার নিজের কাছে রাখতে পারবেন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ-সংক্রান্ত একটি আইন সংশোধনের খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে।
জানা গেছে, আইন ও বিচার বিভাগের উদ্যোগে প্রস্তুত করা 'দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬'-এর খসড়ায় দাতার জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণের বিষয়টি যুক্ত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, এর মাধ্যমে সম্পত্তি দান করার পরও দাতা নিজের জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ব্যবহার ও ভোগ করতে পারবেন।
বর্তমান আইনে এ ধরনের সুনির্দিষ্ট বিধান না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে বাবা-মা, দাদা-দাদি বা অন্যান্য দাতারা সম্পত্তি হস্তান্তরের পর নিজেরাই অনিশ্চয়তার মুখে পড়েন বলে বিভিন্ন সময় অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে পরিবারের সদস্যদের কাছে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার পর অনেক প্রবীণ ব্যক্তি আর্থিক ও সামাজিকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় এনে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল জানিয়েছে।
এর আগে আইনমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধনের পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো দাতার স্বার্থকে আরও সুরক্ষিত করা। তিনি বলেন, বিদ্যমান হেবা ব্যবস্থায় সম্পত্তি দান সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দাতার নিয়ন্ত্রণ কার্যত শেষ হয়ে যায়। ফলে অনেকেই ভবিষ্যতে নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হন বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রস্তাবিত সংশোধনের আওতায় 'লাইফটাইম ইউসুফ্রাক্ট' বা জীবনকালীন ভোগাধিকার যুক্ত করার চিন্তাভাবনা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এর ফলে সম্পত্তির মালিকানা হস্তান্তর হলেও দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত সম্পত্তি ব্যবহার ও ভোগ করার অধিকার বজায় রাখতে পারবেন।
এছাড়া আইনমন্ত্রী আরও জানান, প্রস্তাবিত বিধান কার্যকর হলে বাবা-মায়ের জীবদ্দশায় উভয় পক্ষের সম্মতি ছাড়া সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি বিক্রি করা যাবে না। অর্থাৎ সন্তান এককভাবে সম্পত্তি বিক্রি করতে পারবেন না, আবার দাতাও একক সিদ্ধান্তে তা বিক্রি করতে পারবেন না। এতে উভয় পক্ষের স্বার্থ রক্ষা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এটি এখনো আইন হিসেবে কার্যকর হয়নি। সংশ্লিষ্ট খসড়াটি পরবর্তী আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই চূড়ান্তভাবে কার্যকর হবে। ফলে বর্তমান পর্যায়ে বিষয়টি প্রস্তাবিত সংশোধনী হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।