ক্রাইম এডিশন, ডেস্ক রিপোর্ট:
ছাত্রদলকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ছাত্রদল সম্পর্কে কঠোর মন্তব্য করেছেন বলে জানা গেছে। তার ওই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসে সারজিস আলম লিখেছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, ছাত্রদল যত দ্রুত ছাত্রলীগের মতো আচরণ করবে, তাদের পরিণতিও তত দ্রুত ছাত্রলীগের চেয়েও খারাপ হবে। তার এই বক্তব্য প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তবে এ বিষয়ে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে একই দিনে রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে একটি অনুষ্ঠান চলাকালে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে সেটি সংঘর্ষে রূপ নেয় বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে উদ্বেগ ও উত্তেজনার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, ঢাকা কলেজেও পৃথক একটি ঘটনার অভিযোগ সামনে এসেছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচির প্রস্তুতির সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলায় ছাত্রশিবিরের এক নেতা আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। আহত ব্যক্তি আব্দুল মালেক, যিনি ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের অফিস সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, আহত আব্দুল মালেককে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে বলেও বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। তবে সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা চূড়ান্ত বক্তব্য তখনও প্রকাশ করা হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের অভিযোগ বারবার সামনে আসছে। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে তারা মনে করছেন। একই সঙ্গে শিক্ষাঙ্গনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে বলেও মত প্রকাশ করেছেন অনেকে।
উল্লেখ্য, সারজিস আলমের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া মন্তব্য এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা কলেজে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে প্রকাশিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের পরই প্রকৃত পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হবে।