ক্রাইম এডিশন, ডেস্ক রিপোর্ট:
চাঁদপুরে আদালতে দায়িত্ব পালনকালে এক প্রবীণ আইনজীবী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন বলে জানা গেছে। তিনি চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এবং মতলব উত্তর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তার মৃত্যুতে আইনজীবী মহল ও স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে আদালতে একটি মামলার কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। উপস্থিত সহকর্মীরা দ্রুত তাকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
মৃত আইনজীবীর বয়স প্রায় ৯৩ বছর ছিল বলে জানা গেছে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তিনি আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং চাঁদপুর জেলা আদালতে নিয়মিত মামলা পরিচালনা করতেন। আইনজীবী মহলে তিনি একজন অভিজ্ঞ ও সিনিয়র সদস্য হিসেবে পরিচিত ছিলেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা জানান, তার মৃত্যুতে সমিতির সদস্যদের মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে। তারা মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, তিনি মতলব উত্তর উপজেলার জহিরাবাদ ইউনিয়নের নাওভাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তবে পেশাগত কারণে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদপুর শহরে বসবাস করছিলেন। আইন পেশার পাশাপাশি স্থানীয় রাজনীতিতেও তিনি সক্রিয় ছিলেন বলে জানা গেছে। বিভিন্ন সময়ে তিনি অবিভক্ত মতলব উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং পরে মতলব উত্তর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র উল্লেখ করেছে।
পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, তার একমাত্র ছেলে বর্তমানে জাপানে অবস্থান করছেন। তিনি দেশে ফেরার পর জানাজা ও দাফনের সময় চূড়ান্ত করা হবে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এর আগে মরদেহ হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষণ করা হবে বলেও জানা গেছে। পরে জানাজা শেষে চাঁদপুর শহরের পৌর কবরস্থানে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
প্রবীণ এই আইনজীবীর মৃত্যুতে সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শোক প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। দীর্ঘ আইনজীবী জীবনে তার অবদান স্মরণ করে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শোকবার্তা দিয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে।