ক্রাইম এডিশন, ডেস্ক রিপোর্ট:
জ্বালানি তেল ও গ্যাস সংকট, বিদ্যুৎ বিল নিয়ে জনভোগান্তির অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানীতে সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরের দিকে রাজধানীর সচিবালয়ের সামনে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে জানা গেছে। পদযাত্রা কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা সেখানে কিছু সময় অবস্থান নেন। এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির বক্তব্য দেন।
তিনি বলেন, তাদের কর্মসূচির উদ্দেশ্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অসম্মান করা নয়; বরং সাধারণ মানুষের বিভিন্ন দাবি সরকারের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। তার দাবি, একই ধরনের কর্মসূচি শুধু রাজধানীতেই নয়, দেশের বিভিন্ন জেলায়ও শান্তিপূর্ণভাবে পালন করা হচ্ছে।
জামায়াত আমির আরও বলেন, তারা শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বিশ্বাস করেন এবং জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরে আনতেই সচিবালয়ের সামনে উপস্থিত হয়েছেন। তিনি সরকারের পক্ষ থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো প্রতিনিধি এসে তাদের দাবিপত্র গ্রহণ করার আহ্বান জানান।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, যদি সরকারের কোনো প্রতিনিধি জনগণের দাবিগুলো গ্রহণ করেন এবং সেগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেন, তাহলে সেটিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখবেন তারা। তবে দাবি বাস্তবায়নে অগ্রগতি না হলে ভবিষ্যতে আরও কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ সময় তিনি আরও বলেন, তারা সম্মানজনক পরিবেশে সরকারের প্রতিনিধির হাতে দাবিপত্র তুলে দিতে চান। এজন্য নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করার কথাও জানান। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে কেউ উপস্থিত না হলে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে তিনি জানান।
এদিকে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তবে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। পুলিশের পক্ষ থেকেও বাধা দেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচি ও সরকারের প্রতিক্রিয়া আগামী দিনের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সংযম, আইন মেনে চলা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা মনে করছেন।