নিজস্ব প্রতিবেদক:
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে চাকরির আশ্বাস দিয়ে তরুণীদের একটি আবাসিক ভবনে আটকে রেখে জোরপূর্বক পর্নোগ্রাফি ভিডিও তৈরির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী, তাদের দুই ছেলে ও আরও একজনসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানের সময় ওই ভবন থেকে চার তরুণীকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ ও মামলার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দিবাগত রাতে চৌমুহনী পৌরসভার কিসমত করিমপুর এলাকায় রাবেয়া হাসপাতালের কাছের একটি আবাসিক ভবনে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকেই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার এবং চার তরুণীকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন মো. সালাউদ্দিন বিপ্লব, তার স্ত্রী পারভিন আক্তার, দুই ছেলে ফাহাদ হাসান ও আরাফাত ইয়াসিন ফাহিম এবং আব্দুর রহিম। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাদের স্থায়ী বাড়ি কুমিল্লার হোমনা উপজেলায়। তবে তারা বেশ কিছুদিন ধরে নোয়াখালীতে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন বলে জানা গেছে।
পুলিশের ভাষ্য, উদ্ধার হওয়া তরুণীদের একজন গোপনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে সহযোগিতা চান। ওই ফোনকলের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালায়। অভিযানের সময় ঘটনাস্থল থেকে ভিডিও ধারণের কাজে ব্যবহৃত ক্যামেরা, ছয়টি মোবাইল ফোন, একটি চাবুক, ছুরি, কাঁচি এবং নগদ ১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া এক তরুণী চাকরির আশ্বাসে ওই এলাকায় এসেছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি পার্লারে চাকরি দেওয়ার কথা বলে তাকে চৌমুহনীতে ডেকে নেওয়া হয়। পরে তাকে একটি বাসায় নিয়ে আটকে রাখা এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, তরুণীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌন কর্মকাণ্ডে বাধ্য করা এবং সেসবের ভিডিও ধারণ করা হতো। এসব ভিডিও অনলাইনে প্রচারের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করা হতো বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। একই ভবনে থাকা অন্য তরুণীদেরও দীর্ঘ সময় ধরে আটকে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এসব কর্মকাণ্ডে আপত্তি জানালে তরুণীদের শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হতো। তবে মামলায় করা এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে।
ঘটনার পর উদ্ধার হওয়া এক তরুণী বেগমগঞ্জ মডেল থানায় ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বলে জানা গেছে। মামলার পর গ্রেপ্তার পাঁচজনকে শুক্রবার (৭ আগস্ট) নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
বেগমগঞ্জ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হাবীবুর রহমান বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার হওয়া তরুণীদের প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি আরও জানান, মামলাটির তদন্ত চলমান রয়েছে। অভিযোগের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেলে তদন্তের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
এ ঘটনায় উত্থাপিত অভিযোগের পূর্ণ সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে নিশ্চিত হবে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত আইনগতভাবে তাদের অভিযুক্ত হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।