ক্রাইম এডিশন, ডেস্ক রিপোর্ট:
আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। রোববার (৯ আগস্ট) রাজধানীতে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে জোটের পক্ষ থেকে তার নাম ঘোষণা করা হয় বলে জানা গেছে।
বৈঠক শেষে অলি আহমদের প্রার্থিতার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানান বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ১১টি দল আলোচনার মাধ্যমে সর্বসম্মতভাবে অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে বেছে নিয়েছে।
নাহিদ ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রচলিত রাজনৈতিক ধারার বাইরে গিয়ে একজন ভিন্নধারার ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করার লক্ষ্যেই অলি আহমদকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বর্তমান সরকার নিয়ে রাজনৈতিক সমালোচনাও করেন।
নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত বর্তমান সরকারও আগের সরকারের পথ অনুসরণ করছে। তার দাবি, এরই মধ্যে সরকার সাংবিধানিক বিভিন্ন সংকট তৈরি করেছে। তবে এসব বক্তব্য তার রাজনৈতিক অবস্থান ও অভিযোগ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
এদিকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হওয়ায় ১১ দলীয় জোটের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে দেশের জনগণ ও রাষ্ট্রের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবেন। দেশের সঙ্গে কিংবা জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবেন না বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ১৬ আগস্ট তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট। নির্ধারিত সময়ে একাধিক প্রার্থী থাকলে ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ওইদিন জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে বলে জানা গেছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের এই প্রক্রিয়া সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা ও সমীকরণও গুরুত্ব পাচ্ছে। ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে অলি আহমদের নাম ঘোষণার পর নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৪ জুলাই দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। তার পদত্যাগের পর সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করে নির্বাচন কমিশন। এ বিষয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের বৈঠক হয়েছে বলেও জানা গেছে।
তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত কারা প্রার্থী থাকছেন এবং ভোটের হিসাব কোন দিকে যায়, তা নির্ভর করবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা ও পরবর্তী নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত সংবাদ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের ভিত্তিতে নতুন ভাষা ও কাঠামোয় প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে থাকা রাজনৈতিক দাবি, অভিযোগ ও বক্তব্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলোকে এই নিউজ পোর্টালের নিজস্ব দাবি বা চূড়ান্ত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে না। পোর্টালটির নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন থাকায় প্রতিবেদনটি কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অভিযোগ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।