নিজস্ব প্রতিবেদক:
বরগুনায় মাদকবিরোধী অভিযানে ২০ পিস ইয়াবাসহ সুমন মৃধা (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া গেছে। তিনি জুলাই আন্দোলনের গেজেটভুক্ত ব্যক্তি বলে পুলিশ জানিয়েছে। শনিবার (৮ আগস্ট) রাতে বরগুনা সদর উপজেলার হেউলিবুনিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয় বলে জানা গেছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সুমন মৃধা বরগুনা সদর উপজেলার বালিয়াতলী ইউনিয়নের চালিতাতলী গ্রামের বাসিন্দা। নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ডিবি পুলিশের দাবি, শনিবার রাতে হেউলিবুনিয়া এলাকার দফাদার বাড়ির সামনে অভিযান চালানোর সময় সুমন মৃধাকে আটক করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশি করে ২০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে উদ্ধার হওয়া মাদকের বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে আইনগত প্রক্রিয়ায় যাচাই করা হবে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আটকের পর সুমন মৃধাকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর তাকে বরগুনা সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা করা হয়েছে এবং ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে।
বরগুনা জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ইনচার্জ মো. সাজ্জাত হোসেনের বক্তব্য অনুযায়ী, ইয়াবাসহ আটকের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মামলাটি এখন তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদক উদ্ধারের অভিযোগ ওঠা মানেই আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। আইন অনুযায়ী, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত ও পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়ার কথা। অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতে নিজের বক্তব্য ও আইনগত অধিকার উপস্থাপনের সুযোগ পাবেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বরগুনায় মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এসব অভিযানে মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আটকের খবর বিভিন্ন সময়ে পাওয়া যায়।
সুমন মৃধার বিরুদ্ধে করা মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম কী হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী তথ্যের অপেক্ষা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া ইয়াবার উৎস এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, সেটিও তদন্তে উঠে আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জানা গেছে।
এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা গ্রেপ্তার, ইয়াবা উদ্ধার ও মামলার তথ্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করার বিধান রয়েছে।