নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নিজ দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দিলে সংসদ সদস্য পদ হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সংসদ সদস্য পদ শূন্য হওয়ার বিধান কার্যকর রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন চিফ হুইপ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যরা দলের মনোনীত প্রার্থীর বাইরে অন্য কাউকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন কি না—এ নিয়ে যে আলোচনা রয়েছে, সেখানে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আগামী ২০ আগস্ট দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সংসদ সদস্যদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সাংবিধানিক বিধান রয়েছে। চিফ হুইপ জানান, ওই দিন জাতীয় সংসদ কক্ষে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। সংসদ সদস্যরা তাঁদের নির্ধারিত বিভক্তিসংখ্যা অনুযায়ী ভোট দেবেন বলে জানা গেছে।
রাষ্ট্রপতি, সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা এবং ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ভোট দেওয়ার সময় তা টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা থাকবে বলে জানান চিফ হুইপ। ভোট গণনা থেকে শুরু করে চূড়ান্ত ফল ঘোষণা পর্যন্ত সম্প্রচার অব্যাহত রাখার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।
এদিকে বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী কে হচ্ছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রার্থীর নাম ঘোষণা করলে বিষয়টি সবাই জানতে পারবেন। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়ও প্রার্থীর পরিচয় স্পষ্ট হবে বলে তিনি জানান।
রাজনৈতিক অঙ্গনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে এরই মধ্যে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। জানা গেছে, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। তবে দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম আলোচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। তাঁদের পক্ষ থেকে অলি আহমদকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
নাহিদ ইসলামের বক্তব্য অনুযায়ী, ‘জুলাই সনদ’ এবং সংস্কারের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে নতুনভাবে ভাবার সুযোগ ছিল। তাঁর দাবি, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কার করে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়তে পারত। তবে বর্তমান প্রক্রিয়ায় নির্বাচনকে একতরফা হতে না দেওয়ার লক্ষ্যেই তাঁদের প্রার্থী দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
এর আগে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সংসদ সচিবালয়, নির্বাচন কমিশন এবং বিভিন্ন দলের হুইপরা উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে সংসদ কক্ষ ব্যবহার, সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনী কর্তার দায়িত্ব পালন করেন। সংসদ সদস্যরাই এ নির্বাচনের ভোটার হিসেবে বিবেচিত হন। আগামী ২০ আগস্টের ভোটকে কেন্দ্র করে এখন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রার্থী ও ভোটের সমীকরণ নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হচ্ছে।