ক্রাইম এডিশন, ডেস্ক রিপোর্ট:
ফেনীর দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়জুল আজিম নোমানকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশের পরও একটি মামলা নথিভুক্ত না করার অভিযোগ ওঠার পর জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এ নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে আদালতের স্টেনোগ্রাফার মোহাম্মদ শামছুদ্দীন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে রোববার (৯ আগস্ট) জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ এন এম মোর্শেদ খান এ সংক্রান্ত আদেশ দেন বলে জানা গেছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, দাগনভূঞা থানার মোমারিজপুর গ্রামের বাসিন্দা রাকিব হাসানের স্ত্রী বিবি মারজাহান শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে থানায় লিখিত আবেদন করেছিলেন। তবে ওই আবেদন পাওয়ার পরও মামলা গ্রহণ বা নথিভুক্ত করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরে বিষয়টি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন মারজাহান। আদালতে করা আবেদনের পর বিচারক অভিযোগটি এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করার নির্দেশ দেন বলে জানা গেছে। কিন্তু সেই নির্দেশও যথাযথভাবে পালন করা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে।
এরপর ভুক্তভোগী নারী আদালতে আবারও আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক দাগনভূঞা থানার ওসিকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহারের জন্য ফেনীর পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজিকে নির্দেশনার অনুলিপি পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ওসির কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি দায়িত্বে থাকার ক্ষেত্রে অযোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন বলে আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে ওসি ফয়জুল আজিম নোমানের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে বিষয়টি কীভাবে তদন্ত করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না, সেটিও প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপে স্পষ্ট হবে।
উল্লেখ্য, আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন এবং থানায় অভিযোগ বা মামলা গ্রহণের বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ ক্ষেত্রে কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা যাচাই করার সুযোগ থাকে।