ক্রাইম এডিশন, ডেস্ক রিপোর্ট:
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ছয় মাসের সময়সীমার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানে বিরোধী পক্ষের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে বেশ কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
শনিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ এসব কথা বলেন বলে জানা গেছে।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে বেশ কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম বিদ্যুৎ খাতের সমস্যা মোকাবিলায় ৩০ দিনের পাশাপাশি ৬ থেকে ১৮ মাস এবং দীর্ঘমেয়াদি সময়ের জন্য আলাদা পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
হাসনাতের অভিযোগ, এসব প্রস্তাব ও নাগরিক সমাজের বিভিন্ন মতামত সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছেছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীদের নিয়ে গঠিত বড় টিমের কার্যকারিতা ও দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়ে বিরোধী দলের প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করা এবং এ নিয়ে সংসদে বিশেষ অধিবেশন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তার দাবি, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে নীতিগত কিছু সিদ্ধান্তের কারণে বর্তমান পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে থাকতে পারে।
ফেসবুক পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ আরও অভিযোগ করেন, প্রশাসনে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক পরিবর্তনের ফলে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর প্রভাব বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের পরিকল্পনায় পড়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি কেনার ক্ষেত্রে ডলার সংকট এবং বকেয়া অর্থের বিষয়টি সরকারের পক্ষ থেকে কারণ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এর পাশাপাশি তিনি ২০২৫ সালের মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি বাস্তবায়নের বিষয়টি সামনে আনেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই ব্যবস্থায় বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদকরা বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাছে সরাসরি বিদ্যুৎ বিক্রির সুযোগ পেতে পারে। তবে এই নীতির বাস্তব প্রয়োগে কী ধরনের প্রশাসনিক ও কারিগরি জটিলতা রয়েছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে।
মহেশখালীর এফএসআরইউতে অগ্নিকাণ্ডের পর রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল বলেও হাসনাত তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন। ঘটনাটির পেছনে অবহেলা, কারিগরি ত্রুটি বা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, সে বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের ফল প্রকাশের দাবি জানান তিনি।
হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যে আরও উঠে আসে সরকারের জবাবদিহির বিষয়টি। তার অভিযোগ, বিরোধী দলকে ছয় মাসের মধ্যে বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান দেখানোর চ্যালেঞ্জ দেওয়ার পরিবর্তে সরকারের নিজেদের নেওয়া সিদ্ধান্তের ফলাফল সম্পর্কে জনগণের কাছে ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত।
তিনি বলেন, বিরোধী পক্ষের হাতে বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলার কিছু প্রস্তাব রয়েছে, কিন্তু বাস্তব সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সরকারের হাতে। ফলে আগামী ছয় মাসের মধ্যে পরিস্থিতির কতটা উন্নতি হয়, সেটিই সরকারের সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে বলে তিনি মনে করেন।
তবে হাসনাত আবদুল্লাহর এসব বক্তব্য তার রাজনৈতিক অবস্থান ও দাবির অংশ। বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।