নিজস্ব প্রতিবেদক:
বগুড়ার শেরপুরে কয়েকশ শামুকখোল পাখির বাসা, ডিম ও ছানা ধ্বংসের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দিবাগত রাতে উপজেলার গাড়িদহ ইউনিয়নের রামনগর এলাকা থেকে আজাহার আলী (৬৫) নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে রামনগর এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির পাখির বিচরণ ও প্রজনন ছিল। বিশেষ করে পরিযায়ী শামুকখোল পাখির বড় একটি দল সেখানে নিয়মিত অবস্থান করত। পাখির উপস্থিতির কারণে স্থানীয়ভাবে এলাকাটি ‘পাখি কলোনি’ হিসেবেও পরিচিতি পায় বলে পরিবেশবাদীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, সম্প্রতি আজাহার আলী তার ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে থাকা জলপাই ও পিতরাজ গাছসহ মোট সাতটি বড় গাছ কেটে ফেলেন। স্থানীয়দের দাবি, এসব গাছেই দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক শামুকখোল পাখি বাসা তৈরি করে বংশবিস্তার করছিল। গাছগুলো কেটে ফেলার পর অনেক পাখির বাসা নিচে পড়ে যায়। এতে বেশ কিছু ডিম নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি কিছু ছানা মারা গেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে বলে জানা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বন বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে বিষয়টি। পরে এ ঘটনায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে মামলা করা হয়।
মামলার সূত্রে জানা যায়, বন বিভাগের শেরপুর রেঞ্জের একজন কর্মকর্তা বাদী হয়ে শেরপুর থানায় মামলা করেন। তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ডিমের খোসা ও ছানার অবশিষ্টাংশ সংগ্রহ করা হয়েছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
পুলিশের দাবি, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের সময় তিনি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বাড়ির দেয়াল টপকে পাশের জঙ্গলের দিকে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ ধাওয়া করে তাকে আটক করে। শনিবার (১৫ আগস্ট) তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক তদন্তে গাছ কাটার কারণে পাখির বাসা, ডিম ও ছানা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে। তবে এ ঘটনায় আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ২০১৪ সাল থেকে রামনগর এলাকায় শামুকখোলসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি নিয়মিত আশ্রয় নিয়ে আসছিল। পাখিদের নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে, সে জন্য স্থানীয়ভাবে সচেতনতা বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে।