ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
কুষ্টিয়ায় জামায়াতে ইসলামী ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় নিজের বক্তব্য জানিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। শনিবার (১৫ আগস্ট) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, কুষ্টিয়ায় গণঅধিকার পরিষদের একটি বিক্ষোভ সমাবেশে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে।
তবে হামলার বিষয়ে নুরুল হক নুরের বক্তব্যটি তার নিজের করা দাবি হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। ঘটনাটি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।
নুরুল হক নুর তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে অভিযোগ করেন, গণঅধিকার পরিষদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করা হয়েছে। তার দাবি অনুযায়ী, হামলায় ধারালো অস্ত্র ও বিভিন্ন ধরনের লাঠিসোঁটা ব্যবহার করা হয়। এতে কুষ্টিয়া জেলা গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক, ছাত্র অধিকার পরিষদের কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ শাখার সভাপতি সোহান আহমেদসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে তিনি জানান।
নুর আরও বলেন, এই ঘটনার তিনি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে কঠোর বক্তব্য দেন। তার পোস্টে ভবিষ্যতে বাড়াবাড়ি করলে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এর আগে শনিবার সন্ধ্যার দিকে কুষ্টিয়া শহরের ছয়রাস্তা মোড় এলাকায় জামায়াতে ইসলামী ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ওই ঘটনায় উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন। আহতদের মধ্যে কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজাও রয়েছেন বলে জানা গেছে।
মুফতি আমির হামজা এ ঘটনায় পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, গণঅধিকার পরিষদের কিছু নেতাকর্মী তার গাড়িবহরে হামলা চালিয়েছেন। তার অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার সময় লাঠিসোঁটা ও ইট-পাটকেল ব্যবহার করা হয়। এতে তিনি এবং জামায়াতের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ভিপি নুরুল হক নুর ও রাশেদ খানকে নিয়ে মুফতি আমির হামজার একটি বক্তব্যের প্রতিবাদে গণঅধিকার পরিষদ বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করেছিল। সন্ধ্যায় ওই কর্মসূচি চলাকালে মুফতি আমির হামজা একটি অনুষ্ঠান শেষে গাড়িতে করে বাড়ির দিকে যাওয়ার সময় ঘটনাটি ঘটে বলে জানা গেছে।
একপর্যায়ে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে। পরে আহতদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ঘটনাটি নিয়ে উভয় পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে। তবে সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ, কার পক্ষ থেকে প্রথম হামলা হয়েছিল এবং ঘটনায় কারা সরাসরি জড়িত ছিলেন—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টদের মত।
এদিকে রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এমন সংঘর্ষের ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে বলেও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।