ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর মাহমুদুন নবী ওরফে সম্রাট নামে এক কলেজ শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের একটি মসজিদের পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
মাহমুদুন নবীর বয়স ৩৯ বছর বলে জানা গেছে। তিনি রামপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং স্থানীয় ওয়েস্ট ব্যাংক কলেজে শিক্ষকতা করতেন। তার বাবা মইনুল হক রতন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
জানা গেছে, রোববার সকালে নিজ বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর মাহমুদুন নবী আর বাড়িতে ফেরেননি। স্বাভাবিক সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কোথাও সন্ধান না পেয়ে স্বজনরা আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেন বলে জানা গেছে।
এরপর সোমবার সকালে বাড়ির কাছাকাছি একটি মসজিদের পুকুরে মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয় কয়েকজন। বিষয়টি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে নিহতের স্বজনদের খবর দেওয়া হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি মাহমুদুন নবীর বলে শনাক্ত করেন বলে জানা গেছে।
খবর পেয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ মরদেহটি প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ার জন্য নিয়ে যায় বলে জানা গেছে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল হাকিম বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে মরদেহে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান।
তবে শুধু প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। মাহমুদুন নবী কীভাবে পানিতে গেলেন কিংবা তার মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট কারণ বা ঘটনার পেছনে কারও সম্পৃক্ততার বিষয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে বা নতুন কোনো তথ্য সামনে এলে তদন্তের মাধ্যমে তা যাচাই করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় নানা আলোচনা তৈরি হলেও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। পুলিশের তদন্ত এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের পরই মাহমুদুন নবীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে।
মাহমুদুন নবীর আকস্মিক মৃত্যুতে তার পরিবার, স্বজন ও পরিচিতদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্তের অগ্রগতি বা মৃত্যুর কারণ নিয়ে পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হতে পারে।