ক্রাইম এডিশন, ডেস্ক রিপোর্ট:
দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে জাতীয় সংসদে দলগুলোর ভোটের হিসাব নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী, সংসদে সবচেয়ে বেশি সদস্য রয়েছে বিএনপির। দলটির ২৪৭ জন সংসদ সদস্য ভোট দেওয়ার যোগ্য থাকলেও একজন সদস্যের অনুপস্থিতির কারণে সেই সংখ্যা ২৪৬-এ নেমে আসতে পারে বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সংসদের সদস্যদের ভোটেই দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন বলে জানা গেছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের মোট ৩৫০টি আসনের মধ্যে চট্টগ্রাম-৪ আসনের সদস্যপদ বাতিল হওয়ায় এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪৯ জনে। দলভিত্তিক হিসাবে বিএনপি ২৪৭ আসন নিয়ে সবচেয়ে বড় অবস্থানে রয়েছে। এরপর জামায়াতে ইসলামীর ৭৭ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ৮ জন এবং সমসংখ্যক স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রয়েছেন বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সদস্য সংখ্যা ৩ জন। অন্য ছোট দলগুলোর মিলিয়ে আরও ৬ জন ভোটার রয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম সামনে এসেছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট অলি আহমদকে প্রার্থী করেছে বলে জানা গেছে। ফলে ভোটের মাঠে মূলত দুটি পক্ষের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাচ্ছে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে।
তবে বিএনপির নির্ধারিত ২৪৭ ভোটের হিসাব নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস বর্তমানে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। নির্বাচনের দিন তিনি সংসদে উপস্থিত হয়ে ভোট দিতে পারবেন না বলে দলের সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে। তার অনুপস্থিতি হলে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে দলীয়ভাবে নির্ধারিত ভোটের সংখ্যা এক ভোট কমে ২৪৬ হতে পারে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের দলীয় অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য নিজ দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিলে তার সংসদ সদস্যপদ শূন্য হওয়ার বিধান রয়েছে বলে জানা গেছে। এ কারণে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে সংসদ সদস্যদের ভোট দেওয়ার বিষয়টি অনেকটাই নিশ্চিত বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।
এর আগে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয় বলে জানা গেছে। সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে তফসিল ঘোষণা করে। সেই তফসিল অনুযায়ী ২০ আগস্ট ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে ভোটের চূড়ান্ত ফলাফল নির্ভর করবে নির্বাচনের দিন উপস্থিত ভোটারদের অংশগ্রহণ ও গণনার ওপর। বিএনপির ২৪৭ সদস্যের মধ্যে একজন অনুপস্থিত থাকলে দলটির সম্ভাব্য ভোটসংখ্যা ২৪৬-এ নেমে আসতে পারে বলে জানা গেছে।