ক্রাইম এডিশন, ডেস্ক রিপোর্ট:
দীর্ঘ সময় পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে জাতীয় সংসদে ভোটের প্রস্তুতি চলছে। আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণের সময় নির্ধারিত রয়েছে। এর মধ্যেই সাতক্ষীরা-৪ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ভোটকেন্দ্রে যাবেন কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।
জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরও সংসদ সদস্য হিসেবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে গাজী নজরুল ইসলামের। তবে তিনি কোন প্রার্থীকে সমর্থন করবেন, এমনকি ভোট দিতে সংসদে উপস্থিত হবেন কি না—এ দুটি বিষয়ই এখনো চূড়ান্ত করেননি বলে জানিয়েছেন।
গাজী নজরুল ইসলামের বক্তব্য অনুযায়ী, দল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হলেও তার সংসদ সদস্য হিসেবে ভোটাধিকার রয়েছে। তবে ভোটের বিষয়ে নিজের সিদ্ধান্ত এখনো ঠিক করেননি বলে তিনি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা তিনি বলেছেন বলে জানা গেছে।
এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দুই প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। বিএনপির পক্ষ থেকে প্রার্থী করা হয়েছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। অপরদিকে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদের নাম রয়েছে বলে জানা গেছে।
জাতীয় সংসদের মোট আসন ৩৫০টি হলেও একটি আসন শূন্য থাকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য চূড়ান্ত ভোটার সংখ্যা ৩৪৯ জন। এর মধ্যে দলীয় পরিচয়ের বাইরে থাকা স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের ভোট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।
গাজী নজরুল ইসলামসহ মোট আটজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রয়েছেন বলে জানা গেছে। তারা কোনো দলের দলীয় সিদ্ধান্তের অধীন না থাকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখেন। এরই মধ্যে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের সমর্থন চাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা। বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
গাজী নজরুল ইসলাম শেষ পর্যন্ত ভোট দিতে সংসদে যান কি না এবং গেলে কোন প্রার্থীকে সমর্থন করেন—এ বিষয়টি নির্বাচনের দিনের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠতে পারে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকে মনে করছেন।
তবে ভোটের আগে তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হতে পারে কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি নিজেই জানিয়েছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিষয়টি নিয়ে ভাবছেন। ফলে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত তার অবস্থান নিয়ে কৌতূহল থাকছে বলে জানা গেছে।