ক্রাইম এডিশন, ডেস্ক রিপোর্ট:
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে সংসদ সদস্যদের ভোট দেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন বলে জানা গেছে, বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামো অনুযায়ী সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ দলের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেবেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে সংবিধানের সংশ্লিষ্ট বিধান এখনো পরিবর্তন করা হয়নি। ফলে বর্তমান নিয়মেই এবারের নির্বাচন সম্পন্ন হবে বলে জানা গেছে। তিনি বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে এখনো পরিবর্তন না আসায় সংসদ সদস্যদের ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে নিজ নিজ দলের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তবে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে সংশোধন আনার পর পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন ধরনের সাংবিধানিক ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে। এর মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ বাড়বে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
জানা গেছে, এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘ সময় পর সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচনে বিরোধী পক্ষের প্রার্থী থাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন বলে জানা গেছে, সংবিধান সংশোধনের জন্য গঠিত সংশ্লিষ্ট কমিটিতে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ এখনো হয়নি। ফলে সংবিধানের কাঠামোগত পরিবর্তনের বিষয়টি কীভাবে এগোবে, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংসদ সদস্যদের দলীয় অবস্থান ও ভোট দেওয়ার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণভাবে সম্পর্কিত। তাই এই বিধানে কোনো পরিবর্তন আনা হলে ভবিষ্যতের সংসদীয় রাজনীতি ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় তার প্রভাব পড়তে পারে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার ওপর।
এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অবস্থানও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংসদ সদস্যরা ভোট দিলে নির্বাচনের ফলাফলে দলগুলোর অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ভোটের চূড়ান্ত ফল কী হবে, তা নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্য ও প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পুনর্লিখন করা হয়েছে। কোনো অভিযোগ বা বক্তব্যকে স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে—এমন দাবি করা হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের ক্ষেত্রে ‘বলেন’, ‘জানা গেছে’ ও ‘অভিযোগ উঠেছে’ ধরনের ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে তথ্যও পরিবর্তিত হতে পারে।