নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর উত্তরায় বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পল্লবী থানায় কর্মরত এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ওয়াসিম নামে আরও একজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে মোট ৫ হাজার ৩১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (২৩ আগস্ট) রাতে ইয়াবা পাচারের সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের বিষয়ে তথ্য পাওয়ার পর উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানের প্রথম ধাপে আজমপুর কাঁচাবাজার এলাকায় পুলিশের একটি দল অবস্থান নেয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে ওয়াসিম (২৪) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে তার কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়াসিমকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে পল্লবী থানার এএসআই মো. শফিকুল ইসলামকে (৪৩) গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযানে তার কাছ থেকে আরও ২০০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের দাবি করেছে পুলিশ।
এরপর ওয়াসিমের তথ্যের ভিত্তিতে আজমপুর কাঁচাবাজার এলাকার বিসমিল্লাহ পল্লির নূর বিল্ডিংয়ের ৬৭ নম্বর ফ্ল্যাটে অভিযান চালানো হয়। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে আরও ৫ হাজার ১১০ পিস ইয়াবা পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। সব মিলিয়ে দুই দফা অভিযান ও পরবর্তী তল্লাশিতে ৫ হাজার ৩১০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের কথা বলা হয়েছে।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে বলে জানা গেছে। মামলায় গ্রেপ্তার দুজনের পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। আদালতে হাজির করার পর গ্রেপ্তার দুজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শফিকুল ইসলাম ও ওয়াসিম দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে দক্ষিণখান ও আশপাশের এলাকায় বিক্রি করতেন বলে অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হবে।
পল্লবী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. এমদাদুল হক জানিয়েছেন, এএসআই শফিকুল ইসলামের গ্রেপ্তারের বিষয়টি তিনি অবগত আছেন। তার দাবি, শফিকুল থানায় দায়িত্ব পালনে নিয়মিত ছিলেন না।
পুলিশের এক সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে দোষী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা যাবে না। ঘটনার সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং ইয়াবাগুলো কোথা থেকে এসেছে, তা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।