ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
বাংলাদেশ টেলিভিশনকে (বিটিভি) আরও বিশ্বাসযোগ্য, আধুনিক ও দর্শকবান্ধব গণমাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের পক্ষ থেকে বড় ধরনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক কাজী জেসিন। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ও বিটিভির ভবিষ্যৎ নিয়ে এসব কথা বলেন।
কাজী জেসিনের বক্তব্য অনুযায়ী, বিটিভিকে এমন একটি গণমাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যেখানে দর্শকদের আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। তিনি দাবি করেন, অতীতে বিভিন্ন সময় বিটিভির নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এসব কারণে দর্শকদের একটি অংশ প্রতিষ্ঠানটির প্রতি আগ্রহ হারিয়েছিলেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিটিভির মহাপরিচালকের ভাষ্য, বর্তমান সরকার প্রতিষ্ঠানটির পুরোনো ভাবমূর্তি পরিবর্তন করে নতুনভাবে সাজানোর বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে। তার দাবি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিটিভিকে শুধু আগের অবস্থানে ফিরিয়ে নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না; বরং এটিকে আরও আধুনিক, মর্যাদাপূর্ণ ও ব্যতিক্রমধর্মী একটি গণমাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অতীতে বিভিন্ন সরকারের সময় রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম হিসেবে বিটিভির ভূমিকা নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা ও সমালোচনা হয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক প্রচারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে উঠেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে বর্তমান উদ্যোগের লক্ষ্য হিসেবে তিনি বিটিভির বিশ্বাসযোগ্যতা পুনর্গঠন এবং দর্শকদের আস্থা ফিরিয়ে আনার বিষয়টিকে সামনে তুলে ধরেন।
কাজী জেসিনের বক্তব্যে আরও জানা যায়, বিটিভিকে নতুনভাবে গড়ে তোলার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তার মতে, দীর্ঘদিনের একটি প্রতিষ্ঠানের কাঠামো ও কার্যক্রমে পরিবর্তন আনা সহজ কাজ নয়। তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টরা ইতিবাচকভাবে কাজ করছেন বলে তিনি জানান।
‘নয়া বন্দোবস্ত’ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন সময় আলোচনা হলেও বিটিভির মহাপরিচালক দাবি করেন, এ ধরনের স্লোগান সামনে না এনে প্রতিষ্ঠানটির পরিবর্তনের কাজ বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিটিভির আধুনিকায়ন ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর উদ্যোগকে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে এসব বক্তব্য ও পরিকল্পনার বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, বিটিভির সংবাদ ও অনুষ্ঠান সম্প্রচারে কী ধরনের পরিবর্তন আসবে এবং দর্শকদের আস্থা কতটা ফিরবে—তা নির্ভর করবে ভবিষ্যতের কার্যক্রমের ওপর। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, একটি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা ধরে রাখতে সংবাদ পরিবেশনে ভারসাম্য, পেশাদারিত্ব, তথ্যের নির্ভুলতা ও সম্পাদকীয় স্বাধীনতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এদিকে বিটিভির মহাপরিচালক কাজী জেসিন নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা, শুভকামনা ও দোয়া চেয়েছেন। তার বক্তব্যের মাধ্যমে বিটিভিকে নতুন রূপে গড়ে তোলার যে পরিকল্পনার কথা উঠে এসেছে, সেটি বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।