নিজস্ব প্রতিবেদক:
২০২৭ সালের হজ কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ আরও ৩৮টি হজ এজেন্সিকে দেওয়ার কথা জানা গেছে। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ষষ্ঠ পর্যায়ে শর্তসাপেক্ষে প্রাথমিকভাবে যোগ্য হজ এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এর আগে পাঁচ দফায় ৬৪২টি এজেন্সিকে আগামী হজ কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) প্রকাশিত ষষ্ঠ পর্যায়ের তালিকায় থাকা এজেন্সিগুলোর জন্য বেশ কিছু শর্ত নির্ধারণ করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্টদের বরাতে জানা গেছে, যোগ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত কোনো এজেন্সি যৌক্তিক কারণ ছাড়া ২০২৭ সালের হজ মৌসুমে হজযাত্রী নিবন্ধন না করলে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
মন্ত্রণালয়ের শর্ত অনুযায়ী, হজযাত্রী নিবন্ধন শুরুর আগে তালিকাভুক্ত এজেন্সিগুলোকে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্রুপ বা অ্যালায়েন্স গঠন করতে হবে। সৌদি সরকারের নির্ধারিত ন্যূনতম হজযাত্রী কোটা কোনো এজেন্সি এককভাবে অথবা সমন্বয়ের মাধ্যমে পূরণ করতে পারলে সেই এজেন্সি কিংবা সংশ্লিষ্ট লিড এজেন্সির মাধ্যমে হজযাত্রী সৌদি আরবে পাঠানো সম্ভব হবে বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া ই-হজ সিস্টেমে নির্ধারিত প্যাকেজের আওতায় হজযাত্রী নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। প্যাকেজে সৌদি আরবে দেওয়া সেবার বিবরণ, অবস্থানের সময়কাল, হোটেলের দূরত্ব এবং মোট খরচসহ প্রয়োজনীয় তথ্য উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের শর্তে বলা হয়েছে।
প্রতিটি এজেন্সিকে কমপক্ষে ৪৪ জন হজযাত্রী নিবন্ধনের লক্ষ্য পূরণ করতে হবে। নির্ধারিত সংখ্যক হজযাত্রী থাকলে এজেন্সি সমন্বয় প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবে বলে জানা গেছে। কোনো এজেন্সি এই সংখ্যা পূরণ করতে ব্যর্থ হলে তাদের হজযাত্রী লিড এজেন্সির আওতাধীন অন্য কোনো এজেন্সিতে স্থানান্তরের মাধ্যমে হজ পালনের ব্যবস্থা করতে হবে।
প্রতি ৪৪ জন হজযাত্রীর জন্য একজন করে হজ গাইড নিয়োগের শর্ত রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট গাইডের আরবি ভাষায় দক্ষতা, তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে জ্ঞান এবং হজ পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। ই-হজ সিস্টেমে গাইডের তথ্য যুক্ত করার সময় তার পাসপোর্ট ও পূর্বের হজ পরিচালনার অভিজ্ঞতার তথ্যও দিতে হবে বলে জানা গেছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের শর্তে আরও বলা হয়েছে, অনিবন্ধিত কোনো ব্যক্তিকে হজযাত্রী হিসেবে সৌদি আরবে নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। কোনো এজেন্সির বিরুদ্ধে এমন উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের লাইসেন্স বাতিলসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট এজেন্সি প্রয়োজনীয় হালনাগাদ তথ্যসহ আবেদন করলে যাচাই-বাছাই শেষে তাদের পরবর্তী যোগ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে জানা গেছে।
যোগ্য তালিকা প্রকাশের পর কোনো এজেন্সির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে বলেও শর্তে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে যোগ্য তালিকায় থাকা এজেন্সিগুলোকে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত লাইসেন্স নবায়নের শর্তে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স আগামী বছরের জুনের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার কথা, তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নবায়নের আবেদন করতে হবে।
এ ছাড়া হজ লাইসেন্স, ট্রাভেল লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্স ও আয়কর সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করে ঢাকা হজ অফিসের পরিচালকের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করার শর্ত দেওয়া হয়েছে। যোগ্য তালিকার বাইরে থাকা এজেন্সিগুলোর প্রাক-নিবন্ধন কার্যক্রম আপাতত বন্ধ থাকবে। পরবর্তী সময়ে কোনো এজেন্সি যোগ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলে তাদের প্রাক-নিবন্ধন কার্যক্রম পুনরায় চালুর সুযোগ দেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।