ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
ঢাকার আব্দুল্লাহপুর থেকে টঙ্গী পর্যন্ত গভীর রাতে একটি মোটরসাইকেলে এক তরুণীকে অস্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার একটি দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাটি ঘিরে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে তরুণীটির প্রকৃত শারীরিক অবস্থা এবং তাকে ওইভাবে নেওয়ার কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, বুধবার (২৬ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টা থেকে ৩টা ২০ মিনিটের মধ্যে ঘটনাটি ঘটে। এ সময় ওমরাহ সফর শেষে বগুড়ার দিকে যাওয়ার পথে মুফতি মনোয়ার হোসেন আব্দুল্লাহপুর থেকে টঙ্গী সড়কে ওই মোটরসাইকেলটি দেখতে পান বলে জানা গেছে। পরে তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ঘটনার কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেন।
তার বর্ণনা অনুযায়ী, মোটরসাইকেলে তিনজন ছিলেন। একজন যুবক বাইক চালাচ্ছিলেন। তার পেছনে থাকা আরেক যুবকের মাঝখানে তরুণীকে বসানো হয়েছিল বলে তিনি জানান। তরুণীটির দুই পা নিচের দিকে ঝুলে থাকতে দেখা যায় এবং তাকে অনেকটা নিস্তেজ অবস্থায় ধরে রাখা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য, পরিস্থিতিটি তার কাছে অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় তিনি বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এ সময় জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে সংযোগ পাওয়া যায়নি বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তিনি মোটরসাইকেলটির গতিপথ অনুসরণ করে টঙ্গী পর্যন্ত যান বলে জানা গেছে।
ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মোটরসাইকেলটির নম্বর প্লেটের ছবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে ঢাকা মেট্রো-ল ৫১-৫৩২৪ নম্বরটি দেখা যায় বলে দাবি করা হয়েছে। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে থাকলে সংশ্লিষ্টদের শনাক্তে এটি সহায়ক হতে পারে বলে প্রত্যক্ষদর্শী মনে করছেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘জারা চৌধুরী রাত্রি’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে দাবি করা হয়েছে, ওই তরুণী উত্তরার একটি বারে মদ্যপানের পর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। পরে তাকে হুইলচেয়ারে করে নামিয়ে আনা হয়েছিল বলেও ওই আইডির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। তবে এই দাবির পক্ষে স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং বিষয়টি যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও বিভিন্ন মন্তব্যের সত্যতা নিয়ে এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। তরুণীর পরিচয়, তার শারীরিক অবস্থা কিংবা মোটরসাইকেলে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয়ও এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া কোনো দাবি যাচাই ছাড়া সত্য হিসেবে বিবেচনা না করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
ঘটনাটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য বা তদন্তের ফল পাওয়া গেলে প্রকৃত তথ্য আরও স্পষ্ট হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আপাতত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ও প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্যের ভিত্তিতেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।