ক্রাইম এডিশন, ডেস্ক রিপোর্ট:
পটুয়াখালীর দুমকিতে মসজিদের একটি কক্ষে তরুণ মুয়াজ্জিনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। মৃত্যুর ধরন নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা থাকলেও এখন পর্যন্ত এটিকে আত্মহত্যা বা হত্যাকাণ্ড—কোনোটিই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত ও ময়নাতদন্তের ফলাফল পাওয়ার পর বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাতে পাঙ্গাসিয়া ইউনিয়নের উত্তর পাঙ্গাসিয়া এলাকার হাওলাদার বাড়ি বায়তুল মামুর জামে মসজিদ থেকে মো. সায়েম নামে ২০ বছর বয়সী ওই মুয়াজ্জিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে জানা গেছে।
সায়েম পটুয়াখালী সদর উপজেলার লাউকাঠি ইউনিয়নের জামুরা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ওই মসজিদে মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। প্রায় দুই বছর ধরে তিনি সেখানে ছিলেন বলেও জানা গেছে।
ঘটনার দিন সন্ধ্যার পর সায়েমকে মসজিদের ভেতরের থাকার কক্ষে দেখতে না পেয়ে বিষয়টি নিয়ে খোঁজ শুরু হয় বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। পরে একজন মুসল্লি কক্ষে গিয়ে তাকে খাটের ওপর অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। বিষয়টি আশপাশের লোকজনকে জানানো হলে দ্রুত সেখানে লোকজন জড়ো হন।
পরিস্থিতি দেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল করেন এবং পরবর্তী প্রক্রিয়ার জন্য মরদেহ পটুয়াখালী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয় বলে জানা গেছে।
ঘটনাস্থল ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনা তৈরি হয়েছে কক্ষের ভেতরে পাওয়া কিছু আলামত নিয়ে। পুলিশ জানিয়েছে, সেখানে ফ্যানের হুকের সঙ্গে একটি দড়ি লাগানো অবস্থায় দেখা যায়। পাশাপাশি সায়েমের গলায় দাগ থাকার কথাও জানা গেছে। এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয়দের একটি অংশের মধ্যে সায়েম আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন—এমন ধারণা তৈরি হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। অন্যদিকে নিহতের স্বজনদের পক্ষ থেকে মৃত্যুর ঘটনায় সন্দেহের কথা বলা হয়েছে বলেও জানা গেছে। ফলে ঘটনাটি স্বাভাবিক মৃত্যু, আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে—তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।
দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম উদ্দীন জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনার পর বিষয়টি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
পুলিশের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটি নিয়ে কোনো ধরনের চূড়ান্ত মন্তব্য করা হচ্ছে না। মরদেহের ময়নাতদন্ত, ঘটনাস্থলের আলামত এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য—সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে প্রকৃত কারণ বের করার চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই তদন্তের ফলাফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে কোনো ব্যক্তি বা পক্ষকে দায়ী করা সমীচীন নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের পরই সায়েমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।