ক্রাইম এডিশন, ডেস্ক রিপোর্ট:
রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে একসঙ্গে কয়েক ধরনের পণ্যের দামে পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। প্রায় এক মাস ধরে ফার্মের মুরগির ডিম তুলনামূলক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে গত কয়েক দিনে চিনির দামও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। পাশাপাশি আটা ও ময়দার দামেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। তবে স্বস্তির বিষয় হিসেবে পেঁয়াজ, রসুন, আমদানি করা আদা এবং কিছু সবজির দাম আগের তুলনায় কমেছে বলে জানা গেছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর মুগদা, মানিকনগর, খিলগাঁও ও মতিঝিল এলাকার কয়েকটি বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে নিত্যপণ্যের এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে ফার্মের মুরগির এক ডজন ডিম ১৫০ থেকে ১৬৫ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। চারটি ডিম কিনতে কোথাও কোথাও ৫৫ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। ফলে খুচরা পর্যায়ে ডিমের দাম এখনো ক্রেতাদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে। ব্রয়লার মুরগিও প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে বলে বাজার ঘুরে জানা গেছে।
ডিম ও মুরগির দাম বাড়ার কারণ হিসেবে সরবরাহের ঘাটতির কথা বলেছেন সংশ্লিষ্ট খাতের একজন প্রতিনিধি। বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব এম সাফির রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বন্যায় অনেক লেয়ার খামারি ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এতে কিছু এলাকায় ডিম ও মুরগির সরবরাহ কমে যাওয়ার প্রভাব বাজারে পড়তে পারে বলে তিনি জানান।
অন্যদিকে চিনির বাজারেও নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন খুচরা বাজারে খোলা চিনি এখন প্রতি কেজি ১১৫ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। এক সপ্তাহ আগেও এর দাম তুলনামূলক কম ছিল বলে বিক্রেতারা জানিয়েছেন। কয়েকজন ব্যবসায়ীর দাবি, পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়ার পাশাপাশি সরবরাহ কমে যাওয়ায় খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়েছে।
প্যাকেটজাত চিনির ক্ষেত্রেও সংকটের কথা জানিয়েছেন কয়েকজন ক্রেতা। কোথাও নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত চিনি না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে খোলা চিনি কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা। একজন ক্রেতা জানান, প্যাকেটজাত চিনি খুঁজতে তাকে একাধিক দোকানে যেতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত খোলা চিনি কিনতে হয়েছে বেশি দামে।
আটা ও ময়দার দামও কিছুটা বেড়েছে বলে বাজার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে খোলা আটা ও ময়দার খুচরা দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। বর্তমানে খোলা আটা প্রতি কেজি প্রায় ৪৮ থেকে ৫০ টাকা এবং ময়দা ৬৫ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে বলে জানা গেছে।
তবে সব পণ্যের দাম যে বেড়েছে, তা নয়। বাজারে পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে বলে জানা গেছে। দেশি রসুন, আমদানি করা রসুন ও আমদানি করা আদার দামেও আগের তুলনায় কমতির প্রবণতা রয়েছে।
সবজির বাজারেও কিছুটা স্বস্তি রয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা। করলা, কাঁকরোল, বেগুন ও কচুর লতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজির মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। পটোল, ঢ্যাঁড়স, বরবটি, ঝিঙে ও চিচিঙ্গার দাম ৬০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে রয়েছে। তবে কাঁচা মরিচ ও টমেটোর দাম এখনো তুলনামূলক বেশি বলে বাজার ঘুরে জানা গেছে।
বাজারে পণ্যের দাম ওঠানামার পেছনে সরবরাহ, চাহিদা ও পাইকারি বাজারের পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। আগামী দিনগুলোতে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কিছু পণ্যের দাম কমতে পারে বলে আশা করছেন ক্রেতারা। তবে বর্তমানে ডিম, চিনি, আটা ও ময়দার দামে স্বস্তি না থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারে বাড়তি ব্যয়ের মুখে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।