ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের দেওডোবা গ্রামের মেধাবী শিক্ষার্থী আবু সাঈদ খুদুরী দাখিল পরীক্ষায় ভালো ফল করলেও তার পরিবারে নেই কাঙ্ক্ষিত আনন্দ। জানা গেছে, অর্থনৈতিক সংকটের কারণে সন্তানের উচ্চশিক্ষার খরচ চালানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে পরিবারটি। সাঈদের স্বপ্ন অনেক দূর এগিয়ে যাওয়ার, কিন্তু আর্থিক অসচ্ছলতা সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পরিবারের সদস্যরা।
জানা গেছে, আবু সাঈদের বাবা রাশিদুল ইসলাম পেশায় একজন ভ্যানচালক। মা শিউলি বেগম গৃহিণী। সীমিত আয়ের এই পরিবারে নিত্যদিনের সংসার খরচ মেটাতেই নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। এর মধ্যেই পরিবারের সাধ্যমতো সহযোগিতা নিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে এসেছে সাঈদ।
চলতি বছর ফলগাছা রুহুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয় সে। প্রকাশিত ফলাফলে ১২৫০ নম্বর পেয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছে বলে জানা গেছে। তার এমন সাফল্যে বাবা-মা খুশি হলেও সামনে উচ্চশিক্ষার ব্যয় কীভাবে বহন করবেন, সেটিই এখন পরিবারের প্রধান চিন্তার বিষয়।
পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাঈদের পরবর্তী শিক্ষাজীবনে ভর্তি ফি, বই-খাতা, যাতায়াত, থাকা-খাওয়া এবং অন্যান্য খরচ রয়েছে। বর্তমান আর্থিক অবস্থায় এসব ব্যয় বহন করা পরিবারের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে তারা মনে করছেন। ফলে ভালো ফলাফল অর্জনের পরও ছেলেটির ভবিষ্যৎ শিক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সাঈদ জানান, তার ইচ্ছা পড়াশোনা করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়া। ভবিষ্যতে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন রয়েছে তার। পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন সময় পরিবারের কাজেও সহযোগিতা করতে হয়েছে বলে জানান তিনি। এমনকি প্রয়োজনের সময় বাবার ভ্যান চালানোর কাজও করেছেন বলে জানা গেছে।
সাঈদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভালো ফল করার পরও সামনে পড়াশোনার খরচ কীভাবে চালানো হবে—এ চিন্তা তাকে উদ্বিগ্ন করছে। সুযোগ ও সহযোগিতা পেলে নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে চান বলেও তিনি জানান।
সাঈদের বাবা রাশিদুল ইসলাম বলেন, ছেলের ফলাফলে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। তবে পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে ছেলের উচ্চশিক্ষার ব্যয় বহন করা তার একার পক্ষে কঠিন। তিনি ছেলেকে উচ্চশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে চান এবং এ জন্য সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
সাঈদের মা শিউলি বেগমও ছেলের পড়াশোনার প্রতি পরিবারের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার কথা জানান। তার ভাষ্য, ছেলের পড়াশোনাকে গুরুত্ব দিয়ে নিয়মিত সহযোগিতা করেছেন তিনি। ছেলে যেন পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে, সেটিই তার প্রত্যাশা।
এদিকে বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর জোব্বার বলেন, সাঈদের পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল। পরিষদের পক্ষ থেকে তাকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হবে বলে তিনি জানান।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি জানান, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে এবং মেধাবী শিক্ষার্থীটির জন্য সহায়তার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে।
স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, প্রতিকূলতার মধ্যেও ভালো ফল করা সাঈদের উচ্চশিক্ষার পথ যেন অর্থাভাবে বন্ধ না হয়ে যায়—এমন প্রত্যাশা এলাকাবাসীর। তবে তার ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে কী ধরনের সহায়তা পাওয়া যাবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।