নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকার ডেমরা এলাকায় বিএনপি নেতার বাড়িতে হামলা ও গুলির ঘটনায় গ্রেপ্তারের পর ছাত্রদলের এক নেতাকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বহিষ্কৃত নেতার নাম মাসুদ রানা। তিনি ডেমরা থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে মাসুদ রানাকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এর আগে গত ২৮ আগস্ট ভোরে রাজধানীর ডেমরার সারুলিয়া এলাকায় ডেমরা থানা বিএনপির আহ্বায়ক এসএম রেজা চৌধুরী সেলিমের বাড়িতে হামলা ও গুলি ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় সেলিম রেজা থানায় মামলা করেন বলে জানা গেছে। মামলার পর পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত শুরু করে।
পুলিশের অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সোমবার (৩১ আগস্ট) গভীর রাতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার বরাব এলাকায় একটি ভাড়া বাসা থেকে মাসুদ রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই বাসাটি তাপস নামে এক ব্যক্তির বলে জানা গেছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তাপসের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলায় আসামি থাকা এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
গ্রেপ্তারের সময় ওই বাসা থেকে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র, দুটি ম্যাগাজিন এবং ১৩ রাউন্ড গুলি ও কার্তুজ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। তবে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গুলোর সঙ্গে ডেমরার বিএনপি নেতার বাড়িতে হামলার ঘটনার সরাসরি সম্পর্ক কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সে বিষয়ে তদন্তের বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
মাসুদ রানাকে গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশের পর বিষয়টি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের নেতাদের নজরে আসে বলে জানা গেছে। পরে সংগঠনের পক্ষ থেকে জরুরি সিদ্ধান্ত নিয়ে তাকে বহিষ্কার করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের বিষয়টি উল্লেখ করা হলেও মামলার অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি।
এ বিষয়ে ডেমরা থানা বিএনপির আহ্বায়ক এসএম রেজা চৌধুরী সেলিম ও যুগ্ম আহ্বায়ক আনিসুজ্জামান বলেন, বিএনপির মতো একটি রাজনৈতিক সংগঠনে দলীয় শৃঙ্খলা গুরুত্বপূর্ণ। কেউ শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে তাকে সাংগঠনিকভাবে জবাবদিহির আওতায় আসতে হবে বলে তারা মন্তব্য করেন।
তাদের মতে, মাসুদ রানাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দলের অভ্যন্তরে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও চেইন অব কমান্ডের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
তবে হামলা, গুলি, অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষকে চূড়ান্তভাবে দায়ী করা সমীচীন নয়। এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।