ক্রাইম এডিশন, ডেস্ক রিপোর্ট:
জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া দুটি হত্যা মামলায় চিত্রনায়ক রিয়াজের করা আগাম জামিনের আবেদন নাকচ করেছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) আদালতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে তিনি আগাম জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার আবেদন মঞ্জুর করেননি বলে জানা গেছে।
মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় রাজধানীর সরকারি আলিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থী সাইফুদ্দিন মোহাম্মদ এমদাদকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে রিয়াজসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়। ২০২৫ সালের ২ মে মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল বলে জানা যায়।
ওই মামলায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করা হয়। পাশাপাশি শিল্পী, সাংবাদিক, শিক্ষক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিসহ মোট ২০১ জনের নাম আসামির তালিকায় রয়েছে বলে মামলার তথ্য থেকে জানা গেছে।
এর আগে ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুল ইসলামের আদালত অভিযোগটি গ্রহণ করে শাহবাগ থানাকে এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে জানা যায়।
মামলায় অভিযুক্ত ১৪ জন অভিনয়শিল্পীর মধ্যে চিত্রনায়ক রিয়াজ ছাড়াও ফেরদৌস আহমেদ, চঞ্চল চৌধুরী, মামুনুর রশীদ, মেহের আফরোজ শাওন, অরুণা বিশ্বাস, জ্যোতিকা জ্যোতি, শামীমা তুষ্টি, শমী কায়সার, সাজু খাদেম, আশনা হাবীব ভাবনা, সোহানা সাবা, রোকেয়া প্রাচী ও জায়েদ খানের নাম রয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া মামলায় কয়েকজন সাংবাদিক ও শিক্ষকের নামও রয়েছে। সাংবাদিকদের মধ্যে কালবেলা সম্পাদক সন্তোষ শর্মা ও এটিএন নিউজের মুন্নী সাহাসহ মোট ১৫ জনের নাম থাকার কথা বলা হয়েছে। শিক্ষকদের মধ্যে জাফর ইকবাল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মিজানুর রহমান ও মুনতাসির মামুনসহ ১৩ জনের নাম রয়েছে বলে জানা গেছে।
জুলাই আন্দোলনকে ঘিরে রিয়াজের বিরুদ্ধে আরও একটি হত্যা মামলা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই দুই মামলায় গ্রেপ্তার এড়াতে আগাম জামিন চেয়ে বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে আবেদন করেন তিনি।
তবে শুনানি শেষে আদালত তার আগাম জামিন আবেদন নাকচ করে দেন। এর ফলে মামলাগুলোতে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া কীভাবে এগোয়, সেদিকেই এখন নজর থাকবে।
উল্লেখ্য, মামলায় কারও নাম থাকা বা অভিযোগ আনা মানেই ওই ব্যক্তি অপরাধী—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। অভিযোগের সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। এ প্রতিবেদনটি প্রকাশ্য সংবাদসূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।