ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় রাসায়নিক সারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার গাড়াগঞ্জ বাজার এলাকায় এ কর্মসূচি পালিত হয় বলে জানা গেছে। এতে গাড়াগঞ্জ-শৈলকুপা আঞ্চলিক সড়কে কিছু সময় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ওই পথে চলাচলকারী মানুষ ও যানবাহন চালকদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাড়াগঞ্জ পুরাতন বাজারের একটি সার বিক্রয়কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সার সংগ্রহের জন্য সকালেই বেশ কয়েকজন কৃষক জড়ো হন। কৃষকদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পরও তাদের সার দেওয়ার বিষয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। একপর্যায়ে সার না দেওয়ার কথা জানানো হলে ক্ষুব্ধ কৃষকরা সড়কে অবস্থান নেন।
কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সার পাওয়ার আশায় তারা সকাল থেকে সংশ্লিষ্ট ডিলারের দোকানের সামনে অপেক্ষা করছিলেন। পরে দোকানের কর্মীদের পক্ষ থেকে ওই দিন সার বিতরণ করা হবে না বলে জানানো হয়—এমন অভিযোগ করেন তারা। এরপর কৃষকরা গাড়াগঞ্জ-শৈলকুপা আঞ্চলিক সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে যান চলাচল বন্ধ করে দেন।
সড়ক অবরোধের কারণে ওই এলাকায় যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে বলে জানা গেছে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে তারা কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সার সরবরাহের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
ব্রাহিমপুর গ্রামের কৃষক আলিমুল ইসলাম বলেন, সার সংগ্রহের জন্য তারা সকাল থেকেই ডিলারের দোকানের সামনে অপেক্ষা করছিলেন। পরে ডিলারের কর্মীরা এসে সেদিন সার দেওয়া হবে না বলে জানান বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষ্য, এ অবস্থায় কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হলে তারা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
কৃষকদের একজন জানান, প্রায় এক ঘণ্টা ধরে সড়কে অবস্থান করার পর কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা ও ডিলারের প্রতিনিধিরা সেখানে আসেন। তারা সার দেওয়ার বিষয়ে আশ্বাস দিলে কৃষকরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন বলে জানা গেছে।
শৈলকুপা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান জানান, বিষয়টি জানার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে একজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়। পরে সার সরবরাহ শুরু হলে কৃষকরা সড়ক থেকে সরে যান বলে তিনি জানান।
এ ঘটনায় সাময়িকভাবে সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তবে কৃষকদের অভিযোগ অনুযায়ী, সময়মতো সার না পাওয়ায় তাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। কৃষি মৌসুমে প্রয়োজনীয় সার সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে স্থানীয় কৃষকদের চাষাবাদে সমস্যা হতে পারে বলেও সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখিত সার-সংকট, সরবরাহ নিয়ে অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য স্থানীয় সূত্র ও প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ডিলারের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে যুক্ত করা যেতে পারে।