নিজস্ব প্রতিবেদক:
পাবনার সাঁথিয়ায় পুকুর থেকে আব্দুল আজিজ (৫৫) নামের এক পেঁয়াজ ব্যবসায়ীর গলা কাটা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার মিয়াপুর মিনারপাড়া এলাকার একটি পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। কী কারণে এবং কারা তাঁকে হত্যা করেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
নিহত আব্দুল আজিজ সাঁথিয়া উপজেলার ক্ষেতুপাড়া ইউনিয়নের ডাঙ্গামাছ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের মৃত সেকেন সরদারের ছেলে। স্থানীয়ভাবে তিনি পেঁয়াজের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সোমবার রাতে এশার নামাজের পর বাড়ি থেকে বের হন আজিজ। এরপর রাত বাড়লেও তিনি আর বাড়িতে ফিরে আসেননি। পরিবারের সদস্যরা তাঁর খোঁজ করছিলেন বলে জানা গেছে। তবে কোথায় গিয়েছিলেন বা কার সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছিল, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার সকালে মিয়াপুর মিনারপাড়া এলাকার মানিকের পুকুরে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা একটি মরদেহ পানিতে ভাসতে দেখতে পান বলে জানা গেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে আশপাশের লোকজন সেখানে জড়ো হন। পরে খবর দেওয়া হয় পুলিশকে।
সংবাদ পেয়ে সাঁথিয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। স্থানীয়রা মরদেহটি আব্দুল আজিজের বলে শনাক্ত করেন বলে জানা গেছে। তাঁর শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুকুর থেকে আজিজ নামের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটির সঙ্গে ব্যক্তিগত বিরোধ, ব্যবসায়িক কোনো বিষয় কিংবা অন্য কোনো কারণ জড়িত ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে জানা যেতে পারে।
রাতের বেলায় বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর একজন ব্যবসায়ীর মরদেহ সকালে পুকুরে পাওয়ার ঘটনায় এলাকায় নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের মধ্যেও এ ঘটনায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং তদন্তে পাওয়া অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা করা হবে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার কারণ বা জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।