ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকায় কেয়া গ্রুপের চারটি প্রতিষ্ঠানে ৬২৭ শ্রমিক ও কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হয়েছে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন। ছাঁটাইয়ের খবর প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট কারখানাগুলোর সামনে শ্রমিকদের উপস্থিতি ও অসন্তোষ দেখা দেয় বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে চারটি কারখানার প্রধান ফটকে ছাঁটাই করা শ্রমিক ও কর্মচারীদের নামের তালিকা টানিয়ে দেওয়া হয়। তালিকায় নিজেদের নাম রয়েছে কি না, তা দেখতে সকাল থেকেই অনেকে কারখানার সামনে জড়ো হন। এ সময় কয়েকজন শ্রমিকের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
ছাঁটাইয়ের আওতায় পড়েছে কেয়া গ্রুপের নীট কম্পোজিট ডিভিশন, স্পিনিং ডিভিশন, কটন ডিভিশন এবং কেয়া ইয়ার্ন মিলস লিমিটেড। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নোটিশ অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যায় কারখানাগুলোর প্রধান ফটকে ছাঁটাই-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।
কর্তৃপক্ষের নোটিশে বলা হয়েছে, ব্যাংকিং-সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতা, গ্যাস বিল পরিশোধ না হওয়ায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা এবং প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত জনবল—এসব কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন ও প্রশাসনিক ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে কয়েকটি বিভাগ ও সেকশনের কিছু পদ বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর প্রাসঙ্গিক বিধান অনুসরণ করে ৮ সেপ্টেম্বর থেকে অতিরিক্ত শ্রমিক ও কর্মচারীদের ছাঁটাই কার্যকর হবে। ছাঁটাই হওয়া শ্রমিক-কর্মচারীদের আইন অনুযায়ী প্রাপ্য পাওনা পরিশোধ করা হবে বলেও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
কেয়া গ্রুপের মানবসম্পদ বিভাগের ব্যবস্থাপক সাবিনা ইয়াসমিন জানিয়েছেন, ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের আইন অনুযায়ী প্রাপ্য সব পাওনা ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে পরিশোধের ব্যবস্থা করা হবে। ভবিষ্যতে কারখানাগুলোতে নতুন করে জনবল নিয়োগের প্রয়োজন হলে বর্তমানে ছাঁটাই হওয়া দক্ষ শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে বলেও তিনি জানান।
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, যেসব কর্মী বর্তমানে চাকরিতে বহাল রয়েছেন, তারা লে-অফের আওতায় থাকবেন এবং আইন অনুযায়ী প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন। শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকিং জটিলতা এবং গ্যাস বিল পরিশোধ না করার কারণে গত ৬ জুন থেকে সংশ্লিষ্ট কারখানাগুলো লে-অফ অবস্থায় রয়েছে। পরবর্তী সময়ে কয়েক দফায় লে-অফের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে ছাঁটাইকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের মধ্যে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে জন্য কারখানাগুলোর প্রধান ফটক এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সেখানে শিল্প পুলিশের পাশাপাশি গাজীপুর মহানগর পুলিশের সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়েছে।
তবে ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে ছাঁটাইয়ের বিষয়ে তাদের প্রতিক্রিয়া বা অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে পাওয়া তথ্যগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নোটিশ, শিল্প পুলিশের বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তুলে ধরা হলো।