নিজস্ব প্রতিবেদক:
বরিশাল নগরের একটি ময়লার স্তূপ থেকে দুই নবজাতকের নিথর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে নগরের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বগুড়া রোডের গফুর সড়কের বিপরীতে নতুন বাজার ফরেস্ট অফিসসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো ওই এলাকায় ময়লা পরিষ্কারের কাজ করছিলেন পরিচ্ছন্নতাকর্মী জাকির হোসেন। একপর্যায়ে ময়লার স্তূপের মধ্যে তার চোখে পড়ে দুটি প্লাস্টিকের বাটি। বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় তিনি বাটিগুলোর কাছে গিয়ে দেখতে পান, সেগুলোর ভেতরে দুটি নবজাতকের দেহ পড়ে রয়েছে।
জাকির হোসেন বলেন, ময়লা পরিষ্কারের সময় প্রথমে তিনি বাটি দুটি দেখতে পান। পরে কাছে গিয়ে ভেতরে নবজাতকের দেহ দেখতে পেয়ে বিষয়টি স্থানীয়দের জানান। এরপর স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশকে খবর দেন বলে জানা গেছে।
খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে আশপাশের লোকজন জড়ো হন। ময়লার স্তূপের মধ্যে পাশাপাশি দুই নবজাতকের দেহ পড়ে থাকার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা শুরু হয়। স্থানীয় কয়েকজনের ধারণা, নতুন বাজার ও আশপাশের এলাকায় বেশ কয়েকটি বেসরকারি চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেসব প্রতিষ্ঠানের কোনো একটি থেকে চিকিৎসাবর্জ্যের সঙ্গে নবজাতক দুটির দেহ সেখানে ফেলে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই নবজাতকের দেহ উদ্ধার করা হয়। পরে সেগুলো ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল-মামুন উল ইসলাম বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার সময় পুলিশ সদস্যরা ওই এলাকার কাছাকাছি টহলে ছিলেন। খবর পাওয়ার পরপরই তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে নবজাতক দুটির দেহ উদ্ধার করেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নবজাতক দুটির পরিচয় শনাক্ত করার পাশাপাশি কীভাবে তাদের দেহ ময়লার স্তূপে এসে পড়ল, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে বের করার চেষ্টা চলছে।
নবজাতক দুটির মৃত্যুর কারণও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর স্পষ্ট হতে পারে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে তারা কোথায় জন্ম নিয়েছিল এবং কারা তাদের সেখানে ফেলে গেছে—এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
পুলিশ বলছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে দায়ী করা হয়নি এবং নবজাতক দুটির মরদেহ কীভাবে ওই স্থানে পৌঁছেছে, সে বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।