ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
পাবনার ঈশ্বরদীতে ছেলের বিয়ের কেনাকাটা শেষে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে এক দম্পতির মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) তাদের ছেলের বিয়ের আয়োজন থাকার কথা ছিল। এর আগের দিন সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনায় মুহূর্তেই পরিবারটির আনন্দের পরিবেশ শোকের আবহে পরিণত হয়।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঈশ্বরদী শহরের আলহাজ্ব মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
নিহতরা হলেন ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের মালিথাপাড়া এলাকার আনোয়ার মালিথা (৪০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন (৩৫)। আনোয়ার মালিথা ওই এলাকার মৃত টুনি মালিথার ছেলে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, আনোয়ার মালিথার বড় ছেলে সিয়াম হোসেনের বিয়ের অনুষ্ঠান বৃহস্পতিবার হওয়ার কথা ছিল। বিয়ের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বুধবার বিকেলে স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে ঈশ্বরদী বাজারে যান আনোয়ার। সেখানে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা শেষে সন্ধ্যার দিকে তারা বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
ফেরার পথে আলহাজ্ব মোড় এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয় বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা জানান, সংঘর্ষের পর দুজনই গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থলেই স্বপ্না খাতুনের মৃত্যু হয়।
পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আনোয়ার মালিথাকে উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারও মৃত্যু হয় বলে হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে নিহতদের বাড়িতে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়। যে বাড়িতে ছেলের বিয়েকে ঘিরে প্রস্তুতি চলছিল, সেখানে নেমে আসে বিষাদের ছায়া। স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে ঘটনাটি নিয়ে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান বলেন, আলহাজ্ব মোড় এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার পর ট্রাকচালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছে বলে জানান তিনি। তবে পুলিশ ট্রাকটি আটক করে হেফাজতে নিয়েছে।
ওসি আরও বলেন, আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মরদেহ হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের পর আরও পরিষ্কার হতে পারে। একই সঙ্গে ট্রাকচালককে শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়াও চলছে বলে জানা গেছে।