ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তার দাবি, পর্যাপ্ত ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় দেশের গার্মেন্টস কারখানাগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা ৫০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বগুড়া সার্কিট হাউসে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যবস্থা সচল রাখতে বিদ্যুৎ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্যাস, তেল ও সৌরশক্তিসহ বিভিন্ন উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ থাকলেও বর্তমানে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে দেশের শিল্প খাত চাপে পড়েছে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি জানান, সম্প্রতি তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর প্রতিনিধিরা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়টি জানিয়েছেন। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চাহিদা অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না পাওয়ায় উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
জামায়াতের আমিরের ভাষ্য, শিল্পকারখানার উৎপাদন কমে গেলে একাধিক ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে কারখানার মালিকদের ব্যাংকঋণ পরিশোধে সমস্যা দেখা দিতে পারে এবং অনেক প্রতিষ্ঠান খেলাপি হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ধরে রাখাও কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, উৎপাদন ব্যাহত হলে নির্ধারিত সময়ে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে পণ্য সরবরাহ করা সম্ভব নাও হতে পারে। এতে ক্রেতারা বাংলাদেশের পরিবর্তে অন্য দেশের সরবরাহকারীদের কাছ থেকে পণ্য নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। একবার কোনো বিদেশি ক্রেতা অন্য দেশে চলে গেলে তাকে আবার বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শফিকুর রহমান বলেন, তৈরি পোশাক উৎপাদনে বাংলাদেশ একক কোনো দেশ নয়; আন্তর্জাতিক বাজারে আরও অনেক দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে। ফলে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা তৈরি হলে দেশের রপ্তানি খাত চাপের মুখে পড়তে পারে বলে তিনি মনে করেন।
তার দাবি, গার্মেন্টস খাতের মতো বড় রপ্তানি খাতে যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে অন্যান্য শিল্প খাতের অবস্থাও উদ্বেগের কারণ হতে পারে। এ বিষয়ে বিভিন্ন শিল্পোদ্যোক্তার সঙ্গে তার কথা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তাদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে উদ্বেগের কথা শুনেছেন বলে দাবি করেন জামায়াতের এই নেতা।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারকে সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, তার দলের একটি কারিগরি বিশেষজ্ঞ দল রয়েছে। দেশে ও বিদেশে থাকা এসব বিশেষজ্ঞ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত বলে তিনি জানান।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে আগেও সংসদে কথা বলার দাবি করেন শফিকুর রহমান। তার ভাষ্য, অতীতে সংকটের বিষয়টি যথাযথভাবে স্বীকার করা হয়নি। বর্তমান পরিস্থিতিতেও দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
এ সময় তিনি আরও বলেন, সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও দেশের স্বার্থে সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করা দরকার। শিল্প ও অর্থনীতির ওপর সংকটের প্রভাব কমাতে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে শনিবার সকালে বগুড়ার ধুনট উপজেলার মানিকপোটল (মরিচতলা) গ্রামে আব্দুল মালেকের কবর জিয়ারত করেন ডা. শফিকুর রহমান। পরে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
প্রতিবেদনের তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য ও প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে।