ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা মাঠে আগামী বিশ্ব ইজতেমার তারিখ দ্রুত ঘোষণা এবং দেশের বিভিন্ন মসজিদে দাওয়াত ও তাবলিগের কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনার সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন মাওলানা সাদ অনুসারী হিসেবে পরিচিত মারকাজপন্থিরা। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা ছয় দফা দাবি তুলে ধরেছেন বলে জানা গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে পরবর্তী বিশ্ব ইজতেমা আয়োজনের জন্য দ্রুত সময়সূচি ঘোষণা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দেশের মসজিদগুলোতে দাওয়াত ও তাবলিগের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বাধা না থাকার বিষয়ে সরকারি নির্দেশনা দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
মারকাজ অনুসারীদের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, মাওলানা সাদকে বাংলাদেশে আসার ক্ষেত্রে যে বাধার কথা বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে, তা নিয়েও তারা আপত্তি জানিয়েছেন। তাদের দাবি, মাওলানা সাদ কুরআন ও সুন্নাহবিরোধী কোনো বক্তব্য দিয়েছেন—এমন অভিযোগের বিষয়ে তারা ভিন্নমত পোষণ করেন। এ নিয়ে যারা সমালোচনা করছেন, তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতেও তারা প্রস্তুত বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
ইজতেমা মাঠের ব্যবহার নিয়েও সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন তারা। মাঠটি সরকারের মালিকানাধীন উল্লেখ করে জোবায়েরপন্থিদের মাঠ ব্যবহারের সুযোগ না দেওয়ার বিষয়ে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তার সমালোচনা করেন মারকাজ অনুসারীরা। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ইজতেমা মাঠ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে সবার জন্য গ্রহণযোগ্য ও সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।
এ ছাড়া তাবলিগ জামাতের কার্যক্রম ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার এবং মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগও তোলা হয় সংবাদ সম্মেলনে। এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগ ও দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে এসব বক্তব্যকে সংশ্লিষ্ট পক্ষের দাবি ও অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
মারকাজ অনুসারীদের ছয় দফা দাবির মধ্যে বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণা, মসজিদে বাধাহীনভাবে দাওয়াত ও তাবলিগের কাজের সুযোগ, মাওলানা সাদের বাংলাদেশে আসার বিষয়ে বাধা দূর করা, ইজতেমা মাঠ ব্যবহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত এবং অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানা গেছে।
ইজতেমাকে কেন্দ্র করে তাবলিগ জামাতের বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মতপার্থক্য ও বিভাজনের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। এ অবস্থায় সাদ অনুসারীদের নতুন ছয় দফা দাবি সামনে আসায় বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। এখন সরকারের পক্ষ থেকে এসব দাবির বিষয়ে কী ধরনের সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেটিই দেখার বিষয়।