ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে নতুনভাবে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে ভালো ও কার্যকর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় বাংলাদেশ। তবে দেশের নীতিনির্ধারণ ও আলোচনায় সবসময় শুধু ভারতকে কেন্দ্র করে ভাবা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন বলে জানা গেছে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় ভারতীয় প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন। এ সময় তিনি ভারতের প্রসঙ্গকে অতিরিক্ত গুরুত্ব না দিয়ে দেশের নিজেদের স্বার্থ ও প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বলে জানা গেছে।
হুমায়ুন কবির বলেন, ভারত বাংলাদেশের প্রতিবেশী রাষ্ট্র এবং দুই দেশের মধ্যে ভালো সম্পর্ক থাকা প্রয়োজন। তবে প্রতিদিনের আলোচনায় সবসময় ভারতের বিষয়কে সামনে রাখার প্রয়োজন নেই। নিজের দেশের স্বার্থ ও অগ্রাধিকারের দিকেও সমানভাবে নজর দেওয়া দরকার বলে তিনি মন্তব্য করেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী দ্বিপাক্ষিক কিংবা বহুপাক্ষিক বিভিন্ন ফোরামে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের আলোচনা হবে। তবে জাতিসংঘের মতো বহুপাক্ষিক সম্মেলনের সাইডলাইনে প্রত্যেক দেশের প্রতিনিধির সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করা সবসময় সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে হুমায়ুন কবিরের বক্তব্য, বাংলাদেশ একটি কার্যকর ও ইতিবাচক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে আগ্রহী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা যদি সরাসরি দ্বিপাক্ষিক সফরের মাধ্যমে হয়, তাহলে সেটিই বেশি ফলপ্রসূ হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, কোনো দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার লক্ষ্য থাকলে প্রথম বৈঠকটি বহুপাক্ষিক কোনো অনুষ্ঠানের ফাঁকে না করে দ্বিপাক্ষিক পরিবেশে হওয়াই বেশি উপযোগী।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন কাঠামোয় এগিয়ে নিতে চায়। তার দাবি, গত ১৫ বছরে বাংলাদেশের সঙ্গে তৎকালীন সরকারের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নানা ধরনের অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে পারস্পরিক স্বার্থ ও আলোচনার ভিত্তিতে নতুন সম্পর্ক গড়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, এসব বিষয় কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানের চেষ্টা করা হবে। আন্তর্জাতিক আইন, সীমান্তসংক্রান্ত প্রোটোকল এবং দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান চুক্তি অনুসরণ করে বাংলাদেশের উদ্বেগগুলো ভারতের কাছে তুলে ধরা হবে বলে জানান তিনি।
এ ছাড়া ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পাদিত বিভিন্ন চুক্তি পর্যালোচনার বিষয়টিও তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এসব চুক্তি সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে গুরুত্ব দিচ্ছে; একই সঙ্গে দেশের নিজস্ব স্বার্থ, নিরাপত্তা ও অগ্রাধিকারকে সামনে রেখে ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।