ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। একই সময়ে বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে ৪৮টি মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এসব তথ্য জানান।
ডিএমপির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকসহ বিভিন্ন ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নগর পুলিশের একাধিক বিভাগ অংশ নেয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া গেছে মিরপুর বিভাগে।
জানা গেছে, মিরপুর বিভাগ থেকে ১৩৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া তেজগাঁও বিভাগে ৯২ জন, ওয়ারী বিভাগে ৭৭ জন, মতিঝিল বিভাগে ৫৮ জন, উত্তরা বিভাগে ৫৬ জন, গুলশান বিভাগে ৫৩ জন, রমনা বিভাগে ৩৭ জন এবং লালবাগ বিভাগে ৩২ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া গোয়েন্দা বিভাগ ও সিটিটিসি বিভাগ থেকে দুজন করে মোট চারজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দেওয়া হয়েছে। ডিএমপির বক্তব্য অনুযায়ী, বিভিন্ন থানা এলাকায় পরিচালিত এসব অভিযানে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি বেশ কিছু আলামত ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ২ হাজার ৩২১ পিস ইয়াবা, ২ কেজি ৩৮০ গ্রাম গাঁজা, আট বোতল ফেনসিডিল এবং পাঁচ বোতল বিদেশি মদ। এছাড়া আটটি মোবাইল ফোন, ২০০ গজ ইন্টারনেট ক্যাবল, একটি বাস ও নগদ ১২ হাজার ৭৫০ টাকা উদ্ধারের কথা জানানো হয়েছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুসারে, অভিযানে একটি দেশীয় ওয়ান শুটার গান, একটি সামুরাই এবং ২৭ রাউন্ড গুলিও উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এসব সামগ্রী কোন কোন মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ রয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।
ডিএমপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানের সময় বিভিন্ন আলামত ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারের পাশাপাশি সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা। তবে পুলিশের দেওয়া অভিযোগ ও তথ্যের বিষয়ে আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দোষী হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
রাজধানীতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে বলে ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতেও নগরীর বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।