নিজস্ব প্রতিবেদক:
ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে আবারও দায়িত্ব পাচ্ছেন বিসিএস (পররাষ্ট্র ক্যাডার) ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা খন্দকার মোহাম্মদ তালহা। তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) জারি করা ওই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী ৩ অক্টোবর থেকে খন্দকার মোহাম্মদ তালহাকে ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তার নিয়োগের মেয়াদ আগামী বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ নির্ধারিত মেয়াদ অনুযায়ী তিনি ১৫ মাসের জন্য চুক্তিভিত্তিকভাবে এই দায়িত্ব পালন করবেন।
প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, খন্দকার মোহাম্মদ তালহা রাষ্ট্রদূত হিসেবে গ্রেড-১ পদে দায়িত্ব পালন করবেন। তার অবসরোত্তর ছুটি বা পিআরএলে যাওয়ার কথা থাকলেও সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারার অধীনে তার অবসরোত্তর ছুটি স্থগিত রেখে নতুন এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এতে আরও বলা হয়েছে, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদে তাকে অবসরোত্তর ছুটি ও এ-সংক্রান্ত সুবিধা ভোগ থেকে বিরত থাকতে হবে। একই সঙ্গে অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক রাখার সুযোগ থাকবে না বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
খন্দকার মোহাম্মদ তালহা পররাষ্ট্র ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা। এর আগে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক হিসেবে পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলসংক্রান্ত দায়িত্বে ছিলেন। ওই সময়ে ২০২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর তাকে ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল তৎকালীন সরকার।
সরকারি প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, এবারও ফ্রান্সে রাষ্ট্রদূত হিসেবে তার দায়িত্ব অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে প্যারিসে বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ একজন কর্মকর্তাই দায়িত্বে থাকছেন বলে সংশ্লিষ্ট মহলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিয়োগের মেয়াদ ও অন্যান্য শর্ত সম্পর্কে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এ-সংক্রান্ত বিস্তারিত বিষয় চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। ফলে চুক্তির নির্দিষ্ট শর্তাবলি কার্যকর হওয়ার পর তার দায়িত্ব ও অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয়গুলো আরও স্পষ্ট হবে বলে জানা গেছে।
কূটনৈতিক দায়িত্বের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রদূতরা সংশ্লিষ্ট দেশে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ফ্রান্সের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
তবে খন্দকার মোহাম্মদ তালহার নতুন মেয়াদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কার্যক্রম ও অগ্রাধিকারগুলো কী হবে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী কার্যক্রম ও চুক্তির শর্তের ওপর নির্ভর করবে বলে জানা গেছে।