ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
সরকারি দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি বাড়াতে ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সরকারের প্রথম সচিব সভায় এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়ার কথা জানা গেছে। সভায় সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনা, অনিয়ম ও দুর্নীতি কমানো এবং জনগণের সেবাকে আরও কার্যকর করার বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় সাত মাস পর সচিবালয়ে প্রথমবারের মতো সচিব সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবরা অংশ নেন। প্রশাসনিক কার্যক্রমে সমন্বয় বাড়ানো এবং সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নে গতি আনার বিষয়গুলো সভার আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
জানা গেছে, সরকারি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ সহজ করতে ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর হাজিরা চালু হলে কর্মস্থলে উপস্থিতি ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নজরদারিতে রাখা সহজ হতে পারে। একই সঙ্গে অফিসে সময়ানুবর্তিতা এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সচিব সভায় সরকারি সেবায় অনিয়ম, দুর্নীতি ও হয়রানি কমানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। সাধারণ মানুষ যাতে সরকারি সেবা নিতে গিয়ে অযথা ভোগান্তির মুখে না পড়েন, সে বিষয়ে সচিবদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়ার কথাও উঠে এসেছে।
এ ছাড়া দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়েও সভায় আলোচনা হওয়ার কথা জানা গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্য বাড়লে দেশের অর্থনীতি ও বিদ্যুৎ খাতে সম্ভাব্য চাপ মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। বিশেষ করে সরকারি ভবন ও স্থাপনায় সৌর প্যানেল স্থাপন এবং সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সরকারি চাকরির শূন্য পদ পূরণ, প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে গতি আনা এবং বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচির বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড ও খাল খনন কার্যক্রম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অর্থ ব্যয়, উপকারভোগী নির্বাচন এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়েছে।
সচিব সভার আলোচনায় জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০) নিয়েও আলোচনা থাকার কথা জানা গেছে। সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, কল্যাণমুখী ও কার্যকর করার বিভিন্ন বিষয়ও আলোচ্যসূচিতে ছিল। পাশাপাশি জনগণের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে—এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সচিবরা উপস্থাপন করলে তা নিয়েও মতবিনিময়ের সুযোগ রাখা হয়েছিল।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, সরকারি অফিসে ডিজিটাল হাজিরা কার্যকরভাবে চালু করা গেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ ও পর্যবেক্ষণ আরও সহজ হতে পারে। তবে ব্যবস্থাটি কীভাবে এবং কোন সময়সীমায় সব সরকারি দপ্তরে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
সচিব সভাকে প্রশাসনিক সমন্বয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দীর্ঘ বিরতির পর অনুষ্ঠিত এবারের সভায় প্রশাসনিক জবাবদিহি, সরকারি সেবার মানোন্নয়ন, জ্বালানি পরিস্থিতি এবং সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির বাস্তবায়নসহ একাধিক বিষয় আলোচনায় এসেছে বলে জানা গেছে।