ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
প্রায় ছয় মাস বন্ধ থাকার পর গ্যাস সরবরাহ পেয়ে উৎপাদনে ফিরেছিল চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল)। তবে উৎপাদন শুরুর মাত্র ৪৬ ঘণ্টার মধ্যে আবারও কারিগরি সমস্যায় বন্ধ হয়ে গেছে রাষ্ট্রায়ত্ত এই সার কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টার দিকে কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
সিইউএফএলের উৎপাদন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক উত্তম চৌধুরী বিষয়টি জানিয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, কারখানায় কারিগরি সমস্যা দেখা দেওয়ায় উৎপাদন বন্ধ করতে হয়েছে। সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের কাজ চলছে। পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে আগামী রোববার অথবা সোমবার কারখানাটি পুনরায় চালুর চেষ্টা করা হবে।
এর আগে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টার দিকে সিইউএফএলে ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু হয়েছিল। দীর্ঘ সময় পর গ্যাস সরবরাহ পাওয়ায় ধাপে ধাপে কারখানার বিভিন্ন ইউনিট চালু করা হয়। প্রথমে অ্যামোনিয়া প্ল্যান্ট সচল করার পর ইউরিয়া প্ল্যান্টে উৎপাদন শুরু হয়। কিন্তু চালুর দুই দিনের মধ্যেই নতুন কারিগরি জটিলতায় উৎপাদন থেমে গেছে।
কারখানাটি এর আগে চলতি বছরের ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে পুরোপুরি উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। এরপর প্রায় ছয় মাস ইউরিয়া উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ছিল। পরে ২৫ আগস্ট কারখানায় আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হলেও দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা যন্ত্রপাতি পরীক্ষা, রক্ষণাবেক্ষণ ও উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির কারণে সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হয়নি।
গ্যাস সরবরাহ পাওয়ার পর কারখানার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও উৎপাদন ইউনিট পরীক্ষা করা হয়। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে ১৫ সেপ্টেম্বর উৎপাদন শুরু হয়। তবে উৎপাদন শুরুর পরও কিছু কারিগরি জটিলতা দেখা দিয়েছিল। সেগুলো সমাধানের মাধ্যমে উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে বলে তখন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল।
সিইউএফএল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, কারখানাটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে প্রতিদিন প্রায় ৪৫ থেকে ৫২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হয়। দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকায় কারখানার বিভিন্ন যন্ত্রপাতির ওপরও প্রভাব পড়েছে। ফলে গ্যাস সরবরাহ পাওয়া গেলেও উৎপাদন পুরোপুরি স্থিতিশীল করতে কারিগরি প্রস্তুতির প্রয়োজন হচ্ছে।
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় অবস্থিত সিইউএফএলের দৈনিক ইউরিয়া উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ২০০ টন। গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি ও বিভিন্ন কারিগরি সমস্যার কারণে গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে কারখানাটির উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে।
মার্চে সর্বশেষ দীর্ঘমেয়াদি বন্ধের আগে গত দুই বছরেও যান্ত্রিক ত্রুটি, গ্যাস সংকটসহ বিভিন্ন কারণে একাধিকবার উৎপাদন বন্ধ হয়েছিল। এবার দীর্ঘ বিরতির পর উৎপাদনে ফিরলেও অল্প সময়ের মধ্যে ফের বন্ধ হওয়ায় কারখানাটির উৎপাদন ধারাবাহিকতা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দ্রুত সমস্যা সমাধান করে উৎপাদন পুনরায় চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে।