ক্রাইম এডিশন অনলাইন:
বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আন্দোলনের সাম্প্রতিক কর্মসূচি নিয়ে হতাশ হয়ে উত্তেজিত না হয়ে জনগণের দাবিগুলো বিবেচনা করা উচিত। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখী লং মার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, এর আগে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত একটি লং মার্চ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই কর্মসূচির পর রাজধানীতে গত দুই দিনে উত্তেজনার কিছু লক্ষণ দেখা গেছে। এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্টদের হতাশ না হয়ে জনগণের দাবির প্রতি মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, বর্তমান আন্দোলনে আট দফা দাবি রয়েছে। পরিস্থিতি ও প্রয়োজন অনুযায়ী দাবির সংখ্যা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে জাতীয় প্রয়োজন দেখা দিলে আন্দোলন এক দফার কর্মসূচিতেও রূপ নিতে পারে বলে উল্লেখ করেন জামায়াতের আমির।
এক দফার আন্দোলন হলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে—এমন আশঙ্কার কথাও বক্তব্যে তুলে ধরেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সে ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগেই সাম্প্রতিক অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে জনগণের দাবিগুলো মেনে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
দাবি পূরণে ব্যর্থ হলে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র বা পরিকল্পনা আন্দোলন ঠেকাতে কার্যকর হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। শফিকুর রহমানের দাবি, ১১ দলীয় ঐক্য কোনো নির্দিষ্ট দলের স্বার্থে নয়, বরং দেশের মানুষের বিভিন্ন দাবিকে সামনে রেখে কর্মসূচি পালন করছে।
সমাবেশে তিনি আরও বলেন, জনগণের সমর্থন নিয়েই আন্দোলন এগিয়ে নেওয়া হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
শনিবার সকাল ৮টার দিকে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লং মার্চ শুরু হয়। কর্মসূচিতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়েছে।
শফিকুর রহমানের বক্তব্যে আন্দোলনের ভবিষ্যৎ কর্মসূচি আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও পরবর্তী সময়ে কী ধরনের কর্মসূচি নেওয়া হবে, তা সংশ্লিষ্টদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।